প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০০:০১ : বিশুদ্ধ পানীয় জল মানুষের জীবনের সবচেয়ে মৌলিক প্রয়োজন। অথচ আজও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নিরাপদ ও পরিষ্কার পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। কোথাও জল অত্যধিক লবণাক্ত, আবার কোথাও নোংরা ও ব্যাকটেরিয়ায় ভরা জলই মানুষের একমাত্র ভরসা। এর ফলেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক সব রোগ।
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (AMU)-এর ভূগোল বিজ্ঞান বিভাগের গবেষক আকিব মীর জানিয়েছেন, এই সমস্যা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য এটি এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় দূষিত ও অপরিশুদ্ধ জলের কারণে। ভারতে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের প্রাণ গেছে জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে।
নোংরা জল থেকে ছড়িয়ে পড়ে যেসব মারাত্মক রোগ
আকিব মীরের মতে, খারাপ বা নোংরা জল পান করার ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, ই-কোলাই সংক্রমণের মতো গুরুতর রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগগুলোর সবচেয়ে বড় শিকার হয় শিশুরা। তাই পানীয় জলকে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।
যদিও বর্তমানে ক্লোরিন, আয়োডিন ও আধুনিক ফিল্টার ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তিগত উপায় রয়েছে, তবে সঠিক জ্ঞান ছাড়া এসব পদ্ধতি ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। সে কারণে ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলি অনেক ক্ষেত্রেই বেশি নিরাপদ ও কার্যকর।
১. জল ফুটিয়ে নেওয়া
সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি হলো জল ফুটিয়ে নেওয়া। অন্তত ১০–১৫ মিনিট জল ভালোভাবে ফুটিয়ে নিয়ে পরিষ্কার পাত্রে ঠান্ডা করুন। এতে অধিকাংশ ক্ষতিকর জীবাণু নষ্ট হয়ে যায়।
২. নিমপাতার ব্যবহার
নিমপাতায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ। একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে ৬–৭টি নিমপাতা দিয়ে প্রায় আধ ঘন্টা রেখে দিন। এরপর জল ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. তামার পাত্রে জল রাখা
তামার পাত্রে জল রাখলে তাতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। ৮–১০ ঘন্টা তামার পাত্রে রাখা জল ছেঁকে পান করা নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
৪. মাটির পাত্র বা কলসির ব্যবহার
গ্রামাঞ্চলে আজও মাটির কলসিতে জল রাখার প্রচলন রয়েছে। মাটির পাত্র শুধু জল ঠান্ডা রাখে না, পাশাপাশি কিছুটা হলেও জলকে বিশুদ্ধ করে। ৮–১০ ঘন্টা রাখা জল পানযোগ্য হয়।
৫. ফিটকিরির প্রয়োগ
জলের মধ্যে একটি ছোট টুকরো ফিটকিরি দিয়ে আধ ঘন্টা রেখে দিন। এতে ময়লা ও অমেধ্য নিচে বসে যায়। ওপরের পরিষ্কার জল ছেঁকে ব্যবহার করা যায়।
সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি
আকিব মীরের মতে, এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলি মেনে চললে অনেকটাই নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়া সম্ভব। এতে জলবাহিত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। তবে ক্লোরিন বা অন্যান্য রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায়গুলি সাধারণ মানুষ নিরাপদে অনুসরণ করতে পারেন।

No comments:
Post a Comment