লাইফস্টাইল ডেস্ক, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ফ্যাটি লিভার একটি নীরব রোগ যা ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করে। প্রায়শই এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি পেট থেকে শুরু হয়, কিন্তু মানুষ এগুলিকে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা ক্ষুধা হ্রাসের মতো স্বাভাবিক পেটের সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন। কিন্তু এই লক্ষণগুলি যদি অব্যাহত থাকে, তবে এটি উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে। লিভার শরীরের ৫০০ টিরও বেশি কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি নিজেকে বিষমুক্ত করতে পারে এবং এটি একটি স্ব-পরিষ্কারকারী অঙ্গ। কিন্তু ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার কারণে, লিভারে চর্বি জমা হতে শুরু করে, যা ফ্যাটি লিভারের সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়। সময়মতো যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি গুরুতর এমনকি মারাত্মকও হতে পারে।
ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক লক্ষণ-
ডান দিকের পাঁজরের নীচে ব্যথা
আপনি যদি আপনার ডান দিকের পাঁজরে হালকা ব্যথা, ভারী ভাব বা চাপ অনুভব করেন, তাহলে তা উপেক্ষা করবেন না। এটি লিভারে চর্বি বৃদ্ধির কারণে হতে পারে। প্রচুর খাবার খাওয়ার পরে বা শুয়ে থাকার পরে এই ব্যথা আরও খারাপ হতে পারে।
অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস
আপনি ডায়েট বা ব্যায়াম না করার পরেও হঠাৎ এবং দ্রুত ওজন হ্রাস অনুভব করেন, তবে সতর্ক থাকুন। এটি তখন ঘটে যখন লিভার পুষ্টি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না এবং শরীর দুর্বল হতে শুরু করে।
ঘন ঘন বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
বিশেষ করে তৈলাক্ত বা মশলাদার খাবার খাওয়ার পর বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যদি এটি কয়েক দিনের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
পেট বা পা ফুলে যাওয়া
পেট যদি হঠাৎ ফুলে যেতে শুরু করে অথবা পা ও গোড়ালি ফুলে যায়, তাহলে এটিকে হালকাভাবে নেবেন না। এটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে শোথ বা অ্যাসাইটস বলা হয়। এটি তখন ঘটে যখন লিভার রক্ত সঞ্চালন এবং তরল ভারসাম্য সঠিকভাবে পরিচালনা করতে অক্ষম হয়।
মলের রঙের পরিবর্তন
মলের রঙ লিভারের স্বাস্থ্যের একটি ইঙ্গিত হতে পারে। হলুদ, ধূসর, কালো, অথবা সর্দিযুক্ত মলের উপস্থিতি পিত্তের ভারসাম্যহীনতা নির্দেশ করতে পারে। এটি সরাসরি ফ্যাটি লিভারকে নির্দেশ করে।
ফ্যাটি লিভার প্রাথমিকভাবে খুব ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং সাধারণ পেটের সমস্যার মতো হতে পারে। অতএব, যদি উপরের লক্ষণগুলি অব্যাহত থাকে, তাহলে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসা পরামর্শের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

No comments:
Post a Comment