প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৮:০১ : পাকিস্তানের হামলার জবাবে আফগানিস্তানের পাল্টা আক্রমণের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আফগানিস্তান-এর সামরিক কর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে পাকিস্তান-এর বিমান হামলার জবাবেই তারা পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। ইসলামিক আমিরাতের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, কুনার প্রদেশে আফগান বাহিনীর অভিযানে প্রায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাবুল-এ তিনটি বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায়। ইসলামিক আমিরাতের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, পাকিস্তানি সেনা কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলে বোমাবর্ষণ করলেও তাতে কোনও হতাহতের খবর নেই। পাশাপাশি ডুরান্ড লাইনের সংলগ্ন কান্দাহার ও হেলমন্দেও পাকিস্তানি চৌকিগুলির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।
ফিতরাত এক্স-এ দাবি করেন, ২০৩ মানসুরি কোর ও ২০১ খালিদ বিন ওয়ালিদ কোরের মাধ্যমে পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত, কুনার, নুরিস্তান, নাঙ্গারহার প্রদেশ এবং তোরখাম গেট এলাকায় ব্যাপক পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি প্রধান সদর দফতর ও ১৯টি চৌকি দখল করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি চৌকি খালি করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আফগান বাহিনীর দাবি, প্রায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে জীবিত আটক করা হয়েছে। বহু হালকা ও ভারী অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং একটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে সীমান্তে বিনা উসকানিতে গুলি চালানো হলে তারা পাল্টা জবাব দিয়েছে এবং আফগানিস্তানের দিক থেকে যেসব জায়গা থেকে গোলাবর্ষণ হচ্ছিল, সেগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই সংঘর্ষ শুরু হয়ে পরে একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত। এই সীমান্তকে আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, যা দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ।
গত কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। সীমান্তে সংঘর্ষ, বিমান হামলা এবং পাল্টা অভিযানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যদিও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির চেষ্টা হয়েছে, তবুও সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি এবং পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়ে গেছে।

No comments:
Post a Comment