প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০০:০২ : ভারতীয় বিয়ের নানা আচার–অনুষ্ঠানের মধ্যে তেল ও হলুদের অনুষ্ঠান (গায়ে হলুদ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু ধর্মীয়ভাবে শুভ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা। এই আচারকে বর–কনের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধির একটি প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হয়।
ধর্মীয় গুরুত্ব
১. পবিত্রতা ও শুভ সূচনার প্রতীক
হলুদকে হিন্দু ধর্মে মঙ্গল ও শুভতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। বিয়ের আগে বর–কনেকে হলুদ লাগানোর অর্থ, তারা জীবনের একটি নতুন ও পবিত্র অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন। এটি সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীকও।
২. অশুভ শক্তি ও নজরদোষ থেকে রক্ষা
ধারণা করা হয়, হলুদ ও সর্ষের তেলের প্রলেপ শরীরের চারপাশে এক ধরনের সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। বিয়ের সময় সবাইয়ের নজর থাকে বর–কনের দিকে, তাই এই আচার তাদের অশুভ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে বলে বিশ্বাস।
৩. মন ও শরীরের শুদ্ধিকরণ
হলুদের অনুষ্ঠান বিয়ের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা প্রতীকীভাবে মন, শরীর ও আত্মাকে পবিত্র করার প্রক্রিয়া।
বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব
১. প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল
হলুদে থাকা কারকিউমিন উপাদান জীবাণুনাশক ও প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বককে সংক্রমণ, অ্যালার্জি ও বিভিন্ন সমস্যার থেকে রক্ষা করে।
২. ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়
হলুদ, বেসন ও দইয়ের মিশ্রণ ত্বকের মরা কোষ দূর করে, ট্যান কমায় এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বাড়ায়। তেল ত্বককে নরম করে এবং মেকআপের জন্য ভালো বেস তৈরি করে।
৩. মানসিক চাপ কমায়
তেল মালিশ শরীরকে আরাম দেয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং বিয়ের ব্যস্ততার মধ্যে জমে থাকা ক্লান্তি ও চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৪. প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন
হলুদ ত্বকের রোমছিদ্র খুলে দেয় এবং ভেতর থেকে ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, ফলে বিয়ের আগে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আসে।
বিয়ের হলুদ ও তেলের অনুষ্ঠান শুধু একটি প্রাচীন প্রথা নয়, বরং এটি আধ্যাত্মিকতা, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের এক সুন্দর সমন্বয়। তাই যুগের পর যুগ ধরে এই আচার ভারতীয় বিয়ের এক অবিচ্ছেদ্য ও আনন্দময় অংশ হয়ে রয়েছে।

No comments:
Post a Comment