ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন শেষ হয়েছে। এই নির্বাচনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে কারণ ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং তাঁর দেশ ছাড়ার পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। তবে, ২৯৯টি আসনের নির্বাচনে ৫০ শতাংশেরও কম ভোটারের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচন সম্পর্কে একটি বিবৃতি জারি করেছেন। শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে প্রহসন বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, তিনি সমস্ত নাগরিক, যাতে মা, বোন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সামিল রয়েছেন তাঁদের এই খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের হাস্যকর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। প্রতিবেদন ইন্ডিয়া টিভি হিন্দির।
বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর বার্তায় শেখ হাসিনা বলেছেন, মোহম্মদ ইউনূস অবৈধ এবং অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। তার আজকের করানো তথাকথিত নির্বাচন ছিল একটি সুপরিকল্পিত নাটক। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে করানো হয়েছে এবং এই ছলপূর্ণ, ভোটারবিহীন নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানের চেতনা উপেক্ষা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা তার বার্তায় বলেন, "এই নাটক ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ভোটকেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, ভোট কেনা, টাকা বিতরণ, ব্যালট পেপারে সিলমোহর এবং এজেন্টদের ফলাফল বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে শুরু হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত, সারা দেশের বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল না-এর বরাবর। রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য এলাকার কেন্দ্রে তো ভোটাররা ছিলেন-ই না। নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটদান শুরুর তিন ঘন্টা পর, সকাল ১১ টা পর্যন্ত মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ যোগ্য ভোটার ভোটদান করেছেন। এই কম ভোটিং দেখায় যে, আওয়ামী লীগ-মুক্ত নির্বাচনকে জনতা ব্যাপক প্রত্যাখ্যান করেছে।"
জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, "ধ্যান দেওয়ার মত কথা, আগের দিনগুলিতে আওয়ামী লীগের ভোটাররা, সমর্থকরা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেদের ওপর বারবার হামলা, গ্রেফতারি, হুমকি এবং ভয়ের পরিবেশের তৈরি করা হয়। এর ফলে তাঁরা ভোটকেন্দ্রের দিকে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এর পরেও অনেক হুমকি ও উৎপীড়ন সত্ত্বেও, জনগণ এই নকল নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে, যার ফল দেখা গিয়েছে যে, বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র কার্যত খালি রয়ে গেছে। এছাড়াও, ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে। এটি গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং অত্যন্ত সন্দেহজনক।"
শেখ হাসিনার মূল দাবী-
ভোটারহীন, অবৈধ এবং অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিল করা হোক।
খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের পদত্যাগ করা উচিৎ।
শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবী সহ সকল রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক।
জনগণের ভোটাধিকার বহালের জন্য একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে স্বতন্ত্র, নিরপেক্ষ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন করানো হোক।

No comments:
Post a Comment