পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: সমাজমাধ্যম বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। এখানে কতকিছুই না চোখে পড়ে। এর মধ্যে কিছু জিনিস বিনোদন দেয় তো কিছু দৃশ্য দেখলেই চোখ কপালে ওঠে। আর বর্তমানে এই ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে রোজগেরেও হয়ে উঠেছেন অনেকেই। তাই ভিউজের লোভে অশালীন অঙ্গভঙ্গি থেকে শুরু করে ভয়ঙ্কর সব কাণ্ড ঘটিয়ে বসছেন কেউ-কেউ। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যেন রিলের নেশায় বুঁদ। রিল বানাতে গিয়ে ঠিক-বেঠিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন অনেকেই। এবারে এই রিল বানাতে গিয়েই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে বসলেন এক যুবতী; খাঁড়া হাতে সটান শিব ঠাকুরের বুকের ওপরে চড়ে বসেন তিনি। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষীরপাই বড়মার মন্দিরে। ঘটনা ঘিরে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে ওই যুবতীর বিরুদ্ধে। থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি আজ (বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি) মন্দিরে বিশেষ অভিষেক ও পূজা করা হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক যুবতী রিল বানাতে মন্দিরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। মায়ের মূর্তির চারপাশে তিনি প্রদক্ষিণ করছেন, দুই হাতে দুটি খাঁড়া। মাকে প্রদক্ষিণ করতে-করতে হঠাৎ করেই শিব ঠাকুরের ওপরে চড়ে বসেন তিনি, সেইসঙ্গে জিভ বের করে অট্টহাসি শুরু করেন। আর এই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। ভক্তদের দাবী, এই ভিডিও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং দেবদেবীর প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন।
ঘটনায় ওই যুবতীর বিরুদ্ধে ক্ষীরপাই সনাতনী নাগরিক মঞ্চের তরফে বৃহস্পতিবার ক্ষীরপাই পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাঁদের দাবী, অভিযুক্ত যুবতীকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে করে ভবিষ্যতে কেউ ধর্মীয় স্থান ও বিশ্বাসকে অবমাননার সাহস না পায়। ক্ষীরপাই সনাতনী নাগরিক মঞ্চের তরফে শান্তি অধিকারী বলেন, 'সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, এক মহিলা খাঁড়া হাতে বড়মার মন্দিরে ঢুকে প্রদক্ষিণ করে বাবা ভোলানাথের বুকের ওপর পা দিয়ে রিলস বানাচ্ছে। আমরা এই কাজে অসন্তুষ্ট।"
তিনি আরও বলেন, "ওই মহিলার নামে আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। প্রশাসনের কাছে আবেদন, ওনার বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষকেও অনুরোধ এইসব দিকে লক্ষ্য রাখার, যেন ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনা আর না ঘটে।"
অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি বড়মার মন্দিরে বিশেষ পুজো ও যজ্ঞেরও আয়োজন করা হয়। ভক্তদের বক্তব্য, ক্ষীরপাই বড়মার মন্দির কেবল একটি উপাসনালয় নয়, এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্র। সেখানে এই ধরণের অশালীন ও অবমাননাকর কাজ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment