বারাসত, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে ইতি, মৃত্যু হল রাজ্যে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত মহিলা নার্সের। বৃহস্পতিবার বিকেলে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গত দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই নার্স। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও আচমকাই স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। কোমায় চলে যান তিনি। তাঁর সঙ্গে আরও এক পুরুষ সহকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে জানা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত ৪ জানুয়ারি থেকে অসুস্থ ছিলেন ওই মহিলা নার্স, তাঁর জ্বর এসেছিল। এরপর ১০ জানুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই অবস্থার অবনতি হয়ে কোমায় চলে যান তিনি। দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে রেখেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। গত মাসের শেষেই কিছুটা শারীরিক উন্নতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনের বাইরে আনা হয়। তবে, সেইসময়েই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, নার্স এখনও সঙ্কটমুক্ত নন। অন্যদিকে নিপায় আক্রান্ত পুরুষ নার্স ভাইরাস মুক্ত বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়েছে এবং বাড়িতেই তিনি আইসোলেশনে চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন।
বারাসতের হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, মহিলা নার্সের ডায়রিয়া হয়েছিল, জ্বরেও ভুগছিলেন। রক্তের নমুনা পরীক্ষায় জানা যায়, তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। ১৪ জানুয়ারি থেকে বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই নার্স। প্রসঙ্গত, এখানেই কর্মরত ছিলেন তিনি। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘ সময় ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে থাকার ফলে তাঁর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে তলানিতে ঠেকেছিল। এছাড়াও তাঁর ফুসফুসে দ্বিতীয়বার সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেম কাজ করা বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘদিন কুমার থাকার ফলে শারীরিক জটিলতাও বৃদ্ধি পায়। গত বুধবার পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাঁকে আবার ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোলে তিনি ঢলে পড়েন। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, নিপায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে নার্সের শরীরে যে ক্ষতি হয়েছিল, তা তিনি সামলে উঠতে পারেননি আর এতে করেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান।
রাজ্যে নিপা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছিল। কিন্তু এরই মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

No comments:
Post a Comment