ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শুক্রবার সন্ধ্যায় আবারও উত্তাল বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এলাকায় নিহত ছাত্রনেতা ওসমান হাদীর বিচারের দাবীতে পুলিশের সাথে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। ঢাকা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বাসভবনের সামনে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়।
ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭:৫০ টার দিকে পুলিশ শাহবাগ স্কয়ার থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের সাথে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপুর থেকেই উত্তেজনা ছিল কেননা বিক্ষোভকারীরা ওসমান হাদী খুনের জন্য ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে তদন্তের দাবীতে করছিলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে যে, সংঘর্ষের পর প্রায় ৫০ জন কর্মীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সহিংস বিক্ষোভে ওসমান হাদী একজন বিশিষ্ট কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই বিদ্রোহের ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত হয়, যার ফলে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনেও ওসমান হাদী একজন প্রার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানী থাকাতে প্রচারণা চালানোর সময় ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওসমান হাদী খুনের মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার (OHCHR)- এর কার্যালয়কে তদন্ত পরিচালনা করতে বলবে। সংঘর্ষের পর এক বিবৃতিতে, ইউনূসের কার্যালয় পুনর্ব্যক্ত করে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের তদন্তের "আইনি দিকগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে" এবং ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একটি চিঠি পাঠাবে।

No comments:
Post a Comment