ভ্যালেন্টাইন ডে-র সময় কেন জুটিদের মধ্যে বাড়ে ঝগড়া? বিশেষজ্ঞ জানালেন আসল কারণ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, February 7, 2026

ভ্যালেন্টাইন ডে-র সময় কেন জুটিদের মধ্যে বাড়ে ঝগড়া? বিশেষজ্ঞ জানালেন আসল কারণ



প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০০:০১ : ভ্যালেন্টাইন ডে ২০২৬ নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল গোলাপ, রোমান্টিক ডেট আর ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু জানেন কি, এই প্রেমের সপ্তাহেই অনেক সম্পর্কে ঝগড়া আর ব্রেকআপের খবরও কম শোনা যায় না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়তে থাকা চাপ আর ‘পারফেক্ট কাপল’ দেখানোর তাগিদ থেকেই অনেক সুন্দর সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। একে বিশেষজ্ঞরা বলেন ‘ভ্যালেন্টাইন স্ট্রেস’।



এই স্ট্রেসে সামান্য বিষয়েও তর্ক বেধে যায়, নীরবতা ভারী হয়ে ওঠে, আর যে দম্পতিরা মতবিরোধ ঠিকভাবে সামলাতে পারেন না, তারা ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে আবেগগতভাবে দূরে সরে যেতে থাকেন।



গেটওয়ে অফ হিলিং-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাইকোথেরাপিস্ট ডা. চাঁদনী তুগনাইত বলছেন, ভ্যালেন্টাইন ডে-র অনেক ঝগড়ার শুরু আসলে একদিন আগেই হয়ে যায়। এক জন মনে মনে আশা করেন, সঙ্গী তাকে স্পেশাল ফিল করাতে কিছু করবে, প্ল্যান বানাবে বা আবেগের নিশ্চয়তা দেবে। অন্য জন ভাবেন, দিনটা সাধারণই—খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিংবা নিছক আনুষ্ঠানিক। এই প্রত্যাশাগুলো খোলাখুলি বলা হয় না বলেই হঠাৎ করে হতাশা সামনে আসে। তখন ঝগড়া ফুল বা ডিনার নিয়ে নয়, বরং এই অনুভূতিকে ঘিরে—‘আমাকে বোঝা হলো, না কি উপেক্ষা করা হলো?’



কাপলদের ঝগড়ার পেছনের বড় কারণগুলো

‘পারফেক্ট’ দেখানোর চাপ

এই দিনে বাধ্যতামূলকভাবে খুশি আর রোমান্টিক দেখানোর সামাজিক চাপ অনেক দম্পতির জন্য দমবন্ধ করা হয়ে ওঠে। যেসব সম্পর্ক আগে থেকেই দূরত্ব বা টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই চাপ কাছাকাছি আনার বদলে শূন্যতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। জোর করে রোমান্স দেখাতে গিয়ে ব্যর্থ হলে সেই হতাশাই ঝগড়ায় রূপ নেয়।



অতিরিক্ত প্রত্যাশা আর পুরনো ক্ষত

অনেকে ভাবেন, ভ্যালেন্টাইন ডে-তেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বাস্তবে উল্টোটা হয়। পুরনো, অমীমাংসিত বিষয়গুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এক জনের ‘সব ঠিক করে ফেলার’ আশা আর অন্য জনের ওপর চাপানো সেই প্রত্যাশার বোঝা মুখোমুখি সংঘর্ষ তৈরি করে। মাসের পর মাস জমে থাকা অভিমান একদিনেই বিস্ফোরণ ঘটায়।



সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে

ভ্যালেন্টাইন ডে-তে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাজানো-গোছানো রোমান্টিক ছবি দেখে অনেকেই নিজের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেন। এমনকি মজবুত সম্পর্কেও এতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। কারও কাছে সাধারণ উদযাপন লজ্জার মনে হয়, আবার কারও মনে হয় তাকে অকারণে বিচার করা হচ্ছে। এই তুলনার চাপের সঙ্গে বাস্তব সম্পর্কের আসলে কোনও সম্পর্কই থাকে না।



দমে থাকা সমস্যার সামনে চলে আসা

ভ্যালেন্টাইন ডে অসম্পূর্ণ আবেগ আর সমস্যার জন্য যেন এক ধরনের ‘ম্যাগনিফাইং গ্লাস’। দীর্ঘদিনের দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি এক দিনের দেখনদারিতে ঢাকতে গেলে সংঘাত প্রায় নিশ্চিত। এক জন ভাবেন এই দিনেই সব ঠিক হবে, আর অন্য জন সেই প্রত্যাশার ভারে চাপে পড়ে যান।



যখন ভালোবাসা অভিনয়ে পরিণত হয়

ভালোবাসা যখন সহজ থাকার বদলে পারফরম্যান্স হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা সম্পর্কের জন্য বোঝা হয়ে যায়। অনেক দম্পতি সব কিছু নিখুঁত করতে গিয়ে নিজের আসল অনুভূতিই চেপে রাখেন। কিন্তু চেপে রাখা আবেগ হারিয়ে যায় না—তা তিরস্কার, খিটখিটে আচরণ বা দূরত্ব হয়ে ফিরে আসে। তখন ভালোবাসা স্বাভাবিক থাকে না, হারিয়ে যায় আপন ভাব।



এই ঝগড়াগুলো আসলে কী ইঙ্গিত দেয়?

ভ্যালেন্টাইন ডে-র ঝগড়া খুব কম ক্ষেত্রেই শুধু ওই দিনটাকে ঘিরে হয়। বেশিরভাগ সময় তা যোগাযোগের অভাব, না বলা আবেগের চাহিদা আর দীর্ঘদিনের জমে থাকা প্রত্যাশার দিকেই ইশারা করে। যখন দম্পতিরা খোলাখুলি কথা বলেন, চাপ কমান আর এই ধারণা ছেড়ে দেন যে একটি দিনেই পুরো সম্পর্কের আবেগের বোঝা বইতে হবে—তখন স্ট্রেস আপনাতেই কমে যায়।



ভালোবাসাকে যদি ‘পারফেক্ট’ দেখানোর চেষ্টা না করে, প্রতিদিনের সাধারণ জীবনে তার সব অসম্পূর্ণতা নিয়ে বাঁচতে দেওয়া যায়—তাহলে ভ্যালেন্টাইন ডে আর ঝগড়ার কারণ হয় না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad