প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০০:০১ : আজকের ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। এখন মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই নিজের সুখ-দুঃখ দূরে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই সময়ে সন্তানের প্রথম হাসি, প্রথম হাঁটা বা স্কুলের প্রথম দিনের মুহূর্ত শেয়ার করা প্রতিটি অভিভাবকের কাছেই ভীষণ আনন্দের বিষয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই অভ্যাসই কখনও কখনও শিশুর নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আপনার একটি ‘ক্লিক’ বা ‘শেয়ার’ অজান্তেই সন্তানের সুরক্ষা বিপন্ন করতে পারে। তাই ‘শেয়ারেন্টিং’ (Sharenting) নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
শিশুদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার ৫টি বড় ঝুঁকি
১. প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার হুমকি
শিশুর ছবি থেকে তার স্কুল, বাড়ির ঠিকানা বা আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে অনেক তথ্য বোঝা যায়। এতে অপরাধীরা সহজেই শিশুর অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।
২. ‘ডিজিটাল কিডন্যাপিং’ ও অপব্যবহার
অনলাইনে পোস্ট করা ছবি ব্যবহার করে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করা বা অন্য কেউ নিজের সন্তান বলে দাবি করতে পারে। এমনকি AI প্রযুক্তির সাহায্যে ছবির অপব্যবহারও হতে পারে।
৩. মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
লাইক ও কমেন্টের ওপর নির্ভরতা শিশুর মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। তারা নিজেদের মূল্যায়ন অন্যের প্রশংসার ওপর নির্ভর করে দেখতে শুরু করে, যা স্বাভাবিক বেড়ে ওঠায় বাধা দেয়।
৪. যৌন শোষণের ঝুঁকি
শিশুর নিরীহ ছবি চুরি করে অপ্রীতিকর বা অশ্লীলভাবে ব্যবহার করা হতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ছবি বিকৃত করে খারাপ কাজে লাগানোর ঘটনাও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেলের কারণ হতে পারে।
৫. পরিচয় চুরির আশঙ্কা (আইডেন্টিটি থেফ্ট)
ছবির মাধ্যমে নাম, জন্মতারিখ, স্কুল বা ঠিকানা জানা গেলে তা ব্যবহার করে প্রতারণা, লোন বা ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির মতো অপরাধ ঘটতে পারে।
তাই সচেতন থাকুন। সন্তানের ছবি শেয়ার করার আগে ভাবুন—এই তথ্য কি নিরাপদ? প্রাইভেসি সেটিংস ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এড়িয়ে চলুন। শিশুর সুরক্ষা সবার আগে।

No comments:
Post a Comment