প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০০:০১ : ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে এসেছি—ভালোবাসা নাকি অন্ধ। সিনেমা আর বাস্তব জীবনের বহু প্রেমের গল্পও আমাদের বিশ্বাস করায় যে, দু’জন মানুষ যদি সত্যিই ভালোবাসে, তাহলে বয়স, উচ্চতা বা চেহারা কোনও কিছুরই গুরুত্ব থাকে না। কথাটা শুনতে যতই সুন্দর লাগুক, মনে একসময় প্রশ্ন জাগেই—সম্পর্কে বয়সের পার্থক্য কি সত্যিই কোনও প্রভাব ফেলে না? আর সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য কি আদৌ কোনও “পারফেক্ট এজ গ্যাপ” আছে?
বয়সের পার্থক্য নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানও নানা গবেষণা করেছে। গবেষণা বলছে, ভালোবাসা যে কোনও বয়সেই হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের সুখ-সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ২০১৮ সালে Journal of Population Economics-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার ৩,০০০-এর বেশি দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। কয়েক বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হয়, বয়সের ব্যবধান সম্পর্কের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় কী উঠে এল?
গবেষণার ফল ছিল বেশ আকর্ষণীয়। দেখা গেছে, দম্পতির মধ্যে বয়সের পার্থক্য যত বাড়ে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের সন্তুষ্টি তত কমতে থাকে। বড় বয়সের ব্যবধান থাকা দম্পতিদের মধ্যে লাইফস্টাইল, আবেগজনিত চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ, বয়স দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে—এনার্জি লেভেল, সামাজিক জীবন বা ক্যারিয়ার লক্ষ্য—সবকিছুতেই তার প্রভাব পড়ে।
তাহলে “পারফেক্ট এজ গ্যাপ” কত?
গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে স্থিতিশীল ও সুখী সম্পর্ক সাধারণত সেই দম্পতিদের মধ্যে দেখা যায়, যাদের বয়সের পার্থক্য ০ থেকে ৩ বছরের মধ্যে। কারণ, তারা সাধারণত জীবনের একই পর্যায়ে থাকে—ক্যারিয়ার, বিয়ে বা পরিবার পরিকল্পনা—সবকিছুতেই মিল বেশি থাকে। তাদের ভাবনা, আগ্রহ এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনও অনেকটাই কাছাকাছি হওয়ায় সম্পর্কের বোঝাপড়া ভালো হয়।
অন্যদিকে, ৬ থেকে ১০ বছরের বেশি বয়সের পার্থক্য থাকলে সম্পর্কের সন্তুষ্টি দ্রুত কমতে দেখা যায়, বিশেষ করে ৭ বছরের বেশি ব্যবধান হলে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যদি পুরুষ সঙ্গী বয়সে বেশি বড় হন, তাহলে সম্পর্কের শুরুতে সন্তুষ্টি বেশি থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা দ্রুত কমে যায়। আর যেসব ক্ষেত্রে স্বামী বয়সে অনেক বড়, সেখানে নারীরা তুলনামূলকভাবে কম সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
তবে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি—এই ধরনের গবেষণা শুধু একটি সাধারণ প্রবণতা দেখায়, কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। বাস্তবে এর ব্যতিক্রমও অসংখ্য রয়েছে। সম্পর্ক টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি আসলে বোঝাপড়া, সম্মান এবং যোগাযোগ—শুধু বয়সের পার্থক্য নয়।

No comments:
Post a Comment