প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫০:০১ : সোনা ও রুপোর দামে এমন এক ধাক্কা নেমে এসেছে, যা বাজারের বিশেষজ্ঞদেরও অবাক করে দিয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এই মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম যেভাবে কমেছে, তা গত ৪০ বছরে কখনও দেখা যায়নি। যে সোনা কিছুদিন আগেও আকাশছোঁয়া ছিল, সেটাই হঠাৎ বড় পতনের শিকার হয়েছে। ভারতবর্ষে সোনা শুধু নিরাপদ বিনিয়োগ নয়, বরং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের মনে বড় প্রশ্ন, এটা কি আতঙ্কের সময়, নাকি কম দামে সোনা-রুপো কেনার সেরা সুযোগ?
৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙল, কতটা কমল সোনা-রুপো?
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার—সব জায়গাতেই ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা যাচ্ছে। ১৩ মার্চ যেখানে সোনার দাম ছিল প্রতি আউন্সে প্রায় ৫,২০০ ডলার, ২৩ মার্চে তা নেমে এসেছে প্রায় ৪,৩৫৪ ডলারে। এর আগে এটি ৫,৫৯৫ ডলারেরও বেশি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা গেছে, সোনার দাম আরও কমে প্রায় ৪,৪০০ ডলারে এসেছে এবং এক সময় তা ৪,৩২০ ডলার পর্যন্তও নেমে গিয়েছিল—যা বছরের শুরুর পর সবচেয়ে নিচের স্তর।
ভারতের বাজারেও একই ছবি। মে ২০২৬-এ সরবরাহযোগ্য রুপোর অগ্রিম চুক্তির দাম প্রায় ৬ শতাংশ বা ১৩,৬০৬ টাকা কমে প্রতি কেজি ২,১৩,১৬৬ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে, এপ্রিল ২০২৬-এ সরবরাহযোগ্য সোনার দাম ৫ শতাংশ বা ৭,১১৫ টাকা কমে প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৩৭৭ টাকায় পৌঁছেছে। রাজধানী দিল্লির নগদ বাজারেও বড় স্বস্তি মিলেছে—এখানে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ৫,৯৫০ টাকা কমে ১,৪০,১৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আর রুপো প্রায় ১৫,০০০ টাকা সস্তা হয়ে প্রতি কেজি ২,৩০,০০০ টাকায় নেমে এসেছে।
যুদ্ধের মাঝেও কেন কমছে দাম?
সাধারণত বিশ্বে যখনই কোনো বড় উত্তেজনা বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝোঁকেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও সোনা সেই ঐতিহ্যগত নিরাপদ মর্যাদা ধরে রাখতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং উচ্চ সুদের বাস্তব ফলন সোনার ওপর চাপ তৈরি করছে। এছাড়া এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে যে কিছু দেশ আর্থিক চাপ সামলাতে নিজেদের সোনার মজুত বিক্রি করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নেই, তবুও এই আশঙ্কা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য কি সুযোগ?
এই অস্থির বাজারে সাধারণ ক্রেতারা প্রায়ই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার এই পতন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো সুযোগ হতে পারে।
ধাপে ধাপে কম দামে কেনাকাটা করলে ভবিষ্যতে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। দাম আরও কিছুটা কমে একটি গুরুত্বপূর্ণ গড় স্তরের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই হঠাৎ বড় বিনিয়োগ না করে, সময় নিয়ে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।

No comments:
Post a Comment