প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪৫:০১ : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সাধারণ প্রশাসন) বিধেয়ক, ২০২৬ উপস্থাপন করবেন। জানা গেছে, এই বিধেয়কে বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি এবং সিআইএসএফ-এর মতো আধাসামরিক বাহিনীতে আইজি ও তার ঊর্ধ্বতন পদে আইপিএস আধিকারিকদের প্রতিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই বিধেয়কটি সর্বোচ্চ আদালতের মে ২০২৫-এর এক রায়ের পর আনা হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীতে আইপিএস আধিকারিকদের প্রতিনিয়োগ কমানো এবং ছয় মাসের মধ্যে ক্যাডার পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালত আরও জানায়, উচ্চপদে বাইরের নিয়োগের কারণে বাহিনীর নিজস্ব আধিকারিকদের পদোন্নতিতে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে, যা তাদের মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে, কিছু অবসরপ্রাপ্ত বাহিনী আধিকারিক এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিরুদ্ধে আদালতে অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে আদালতের নির্দেশ মানা হয়নি।
কী আছে এই বিধেয়কে?
এই বিধেয়কের লক্ষ্য হল কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীতে আধিকারিক নিয়োগ, প্রতিনিয়োগ, পদোন্নতি এবং চাকরির শর্তাবলি একটি অভিন্ন আইনের আওতায় আনা। বর্তমানে সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি আলাদা আলাদা আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। সরকারের মতে, একক কাঠামো না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা ও চাকরি সংক্রান্ত বিরোধ বাড়ছে।
এই বিধেয়ক অনুযায়ী, আইজি স্তরের ৫০ শতাংশ পদ আইপিএস আধিকারিকদের দিয়ে পূরণ করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি এডিজি স্তরের কমপক্ষে ৬৭ শতাংশ পদ আইপিএস আধিকারিকদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। এসডিজি ও ডিজি স্তরের সমস্ত পদ প্রতিনিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
পুরো বিতর্ক কী নিয়ে?
এই বিতর্ক মূলত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর নিজস্ব কর্মকর্তা এবং আইপিএস কর্মকর্তাদের মধ্যে। বাহিনীতে দুই ধরনের আধিকারিক থাকেন—প্রথমত আইপিএস, যাদের সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিনিয়োগে পাঠায়; দ্বিতীয়ত ক্যাডার আধিকারিক, যারা সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পান।
ক্যাডার আধিকারিকদের নিয়োগ কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের পরিচালিত সহকারী কমান্ড্যান্ট পরীক্ষার মাধ্যমে হয়। এই নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়েই মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে।
বিধেয়ক পাস হলে কী বদলাবে?
সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্য হল সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি, সিআইএসএফ এবং এসএসবি-র আলাদা নিয়মগুলোকে এক ছাতার নিচে আনা, যাতে প্রশাসনিক জটিলতা ও বারবার আইনি লড়াই কমে।
সরকারের দাবি, আইপিএস আধিকারিকদের উপস্থিতি কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায়, যা দেশের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
.jpg)
No comments:
Post a Comment