হোলির পর কেন হয় ভাই ফোঁটা? জানুন রহস্য ও গুরুত্ব - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, February 21, 2026

হোলির পর কেন হয় ভাই ফোঁটা? জানুন রহস্য ও গুরুত্ব



প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০০:০২ : হিন্দু ধর্মে ভাই-বোনের পবিত্র ও অটুট সম্পর্ককে উদযাপন করার একটি বিশেষ উৎসব হলো ভাই ফোঁটা (ভাই দোজ)। এই উৎসব বছরে দু’বার পালিত হয়—একবার কার্তিক মাসে দীপাবলির পর ‘যম দ্বিতীয়া’ তিথিতে এবং আরেকবার চৈত্র মাসে হোলির পর, যা ‘হোলির ভাই ফোঁটা’ নামে পরিচিত। হোলির রঙের উচ্ছ্বাস শেষ হতেই এই দিনটি আসে, যখন বোনের ফোঁটা আর ভাইয়ের আশীর্বাদে পরিবারে ভালোবাসা ও বন্ধনের নতুন সুর তৈরি হয়।

ভাই ফোঁটার গুরুত্ব

ভাই ফোঁটা মূলত ভাই-বোনের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক। এই দিনে বোনেরা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেয়, আরতি করে এবং তার দীর্ঘায়ু, সুখ-সমৃদ্ধি ও সুরক্ষার কামনা করে। ভাইও বোনকে উপহার দেয় এবং তার প্রতি নিজের দায়িত্ব ও ভালোবাসা প্রকাশ করে। বিশ্বাস করা হয়, বোনের এই ফোঁটা ভাইকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করে এবং অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা দূর করে।

হোলির পর ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয়

হোলি বসন্তের উৎসব—চারদিকে রঙ, আনন্দ আর নতুন প্রাণের ছোঁয়া। এই আনন্দের পরেই আসে ভাই ফোঁটা, যা সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ায়। হোলির রঙ যেমন মনকে রাঙায়, তেমনই ভাই ফোঁটার ফোঁটা হৃদয়কে ভালোবাসায় ভরিয়ে তোলে। এই সময়টা পরিবারে একসাথে সময় কাটানোর এবং সম্পর্ককে আরও মজবুত করার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

পौरাণিক কাহিনি

ভাই ফোঁটা নিয়ে একাধিক কাহিনি প্রচলিত আছে।

একটি কাহিনিতে বলা হয়, যমরাজ তাঁর বোন যমুনার বাড়িতে গিয়ে ফোঁটা নেন এবং তার সঙ্গে আহার করেন। তিনি বোনকে বর দেন যে, এই দিনে যে ভাই বোনের বাড়িতে গিয়ে ফোঁটা নেবে, তার অকাল মৃত্যু হবে না।

আরেকটি কাহিনিতে আছে, নরকাসুর বধের পর শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে গেলে সুভদ্রা তাঁকে ফোঁটা দেয়। সেই থেকেই এই প্রথার সূচনা বলে মনে করা হয়।

পূজা ও রীতি

এই দিনে বোনেরা সকালে স্নান করে পূজার প্রস্তুতি নেয়। ভাইয়ের জন্য আসন সাজানো হয় এবং কপালে চন্দন, কুমকুম, চাল (অক্ষত) দিয়ে ফোঁটা দেওয়া হয়। আরতি করে ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করা হয়। অনেক বোন এই দিনে উপবাসও রাখে এবং ভাইয়ের আগমনের পর তা ভঙ্গ করে। ঘরে বিভিন্ন মিষ্টি ও নিরামিষ খাবার তৈরি হয়।

ভাই ফোঁটা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি সম্পর্কের গভীরতা ও পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক। হোলির রঙের পর এই দিনটি ভালোবাসার রঙে জীবনকে আরও সুন্দর করে তোলে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad