প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:১০:০২ : মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বড় ধাক্কার পর বাণিজ্য নীতিতে আরও কড়া পদক্ষেপ নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের রায়ে তাঁর জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার পরই তিনি নতুন করে গোটা বিশ্বের উপর অতিরিক্ত ১০% ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই শুল্ক আগামী ৫ মাসের জন্য কার্যকর থাকবে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তা প্রযোজ্য হবে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই এই নতুন ট্যারিফ কার্যকর হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ১২২ ব্যবহার করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আগের শুল্কের উপর অতিরিক্তভাবে আরোপ করা হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) ব্যবহার করে ট্যারিফ বসানো প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার বাইরে। আদালত ৬-৩ ভোটে জানায়, কর আরোপের ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের হাতে, প্রেসিডেন্টের নয়।
আদালতের এই রায়ের পর ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি বিকল্প উপায়ে রাজস্ব আদায় চালিয়ে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের কাছে আরও শক্তিশালী উপায় আছে, আমরা আরও বেশি অর্থ আনব।”
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য নীতির উপর তদন্ত চালিয়ে ভবিষ্যতে আরও শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
এই আইনের অধীনে, পেমেন্ট ব্যালেন্সে গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা খুব কমই ব্যবহৃত হয়েছে এবং এতে প্রক্রিয়াগত বাধা তুলনামূলক কম।
রায়ের পর ট্রাম্প একে “হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তে বিদেশি দেশগুলো লাভবান হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আদালতের কিছু বিচারপতির সমালোচনাও করেন।
এই রায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর আগের ট্যারিফ নীতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কেও চাপ পড়েছিল।
তবে নতুন এই ১০% গ্লোবাল ট্যারিফ আবারও বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে নতুন উত্তেজনার কারণও হতে পারে।

No comments:
Post a Comment