কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথি। আর এই দিনে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'বঙ্কিম দা' বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন আর এবারে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের নামের আগে 'স্বামী' শব্দ ব্যবহারে শুরু হয়েছে এই বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীর সন্ন্যাসী নরেন্দ্রনাথ দত্তকে 'স্বামী বিবেকানন্দ' বলে অভিহিত করা হয়। তাহলে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নামের শুরুতে 'স্বামী' শব্দটি কেন ব্যবহার করা হল, তা নিয়েই সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
বৃহস্পতিবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, "স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংস জি'কে তাঁর জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। তিনি আধ্যাত্মিকতা এবং সাধনাকে যেভাবে জীবনীশক্তি রূপে স্থাপনখ করেছিলেন, তা যুগে যুগে মানবতার কল্যাণ করবে। তাঁর সুবিচার ও বার্তা সর্বদা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।"
আর এরপরই সমাজ মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতার পোস্ট, "আমি আবারও স্তম্ভিত! বারবার একই ঘটনা ঘটে চলেছে। বাংলার মনীষীদের প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অবহেলা, অসংবেদনশীলতা, আজ তা আবার প্রকট হলো। আজ যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। এই পুণ্য লগ্নে তাঁকে প্রণাম জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের আগে একটা অশ্রুতপূর্ব, অপ্রযোজ্য তকমা জুড়ে দিলেন— 'স্বামী'!"
মমতা আরও লেখেন, সবাই জানেন, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে 'ঠাকুর' হিসেবে পূজিত। তাঁর দেহাবসানের পর তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন তৈরি করেন এবং ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে সেই সন্ন্যাসীদের নামের আগে 'স্বামী' উপাধি বসে। কিন্তু স্বয়ং আচার্যদেব সব সময় 'ঠাকুর' নামেই পরিচিত। রামকৃষ্ণ সংঘের যে পবিত্র ত্রয়ী - ঠাকুর-মা-স্বামীজি - সেখানেও তিনি ঠাকুর; মা সারদা 'মা' এবং বিবেকানন্দ হলেন 'স্বামীজি'। ঠাকুরকে 'স্বামী' বলার মানে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না।"
এরপরই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, "আমি প্রধানমন্ত্রীকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, আধুনিক ভারতের রূপকার বাংলার এই নবজাগরণের মহাপুরুষদের অপমান করা দয়া করে বন্ধ করুন। তাঁদের জন্য রোজ নতুন নতুন বিশেষণ আবিষ্কার করার কোনও প্রয়োজন নেই। দয়া করে, বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।"
প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনা পর্বে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'বঙ্কিম দা' বলে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণের মাঝেই লোকসভায় প্রতিবাদ করেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়। সংসদের পাশাপাশি দলীয় স্তরেও মোদীর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। আর এবারে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নামের শুরুতে 'স্বামী' শব্দটি লেখাতে সরব হয়েছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতার পাশাপাশি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও এই বিষয়ে সরব হয়েছেন এবং অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট সংশোধনের দাবী জানিয়েছেন।



No comments:
Post a Comment