১০৭ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্পের ২০টির বেশি ভুয়ো দাবী, ভারত নিয়েও ভুল তথ্য - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, February 25, 2026

১০৭ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্পের ২০টির বেশি ভুয়ো দাবী, ভারত নিয়েও ভুল তথ্য



প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৪৫:০১ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন (SOTU) ভাষণে আগের সব রেকর্ড ভেঙে ১০৭ মিনিট ধরে বক্তব্য রাখেন। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি আমেরিকা, ইরান, যুদ্ধসহ নানা ইস্যু তুলে ধরেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তাঁর করা একাধিক ভুল বা বিভ্রান্তিকর দাবীকে ঘিরে। দাবী করা হচ্ছে, এই ভাষণে তিনি ২০টিরও বেশি ভুল তথ্য তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গও রয়েছে।



নিচে ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত ও ভুল দাবী সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—


ট্রাম্প দাবী করেন, তিনি ভারত ও পাকিস্তান-সহ ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছেন। কিন্তু এই দাবীর কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই এবং বক্তব্যের লিখিত সংস্করণেও অসঙ্গতি দেখা গেছে।



তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ডিসি-তে অপরাধ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। বাস্তবে গুরুতর অপরাধের হার বেড়েছে, যদিও ছোটখাটো অপরাধ কিছুটা কমেছে।



ডিমের দামের ক্ষেত্রে ৬০% কমার দাবী করেন ট্রাম্প, কিন্তু বাস্তবে তা প্রায় ৪০% কমেছে।



মিনেসোটা-তে সোমালি সম্প্রদায়ের ১৯ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতির অভিযোগ করেন, অথচ সরকারি তথ্য অনুযায়ী তা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।


তিনি দাবী করেন, জো বাইডেন সরকারের সময় ১ কোটি অপরাধী আমেরিকায় ঢুকেছে—এমন কোনও সরকারি তথ্য নেই।



ট্রাম্প বলেন, তিনি এক বছরে ৭ লাখ চাকরি তৈরি করেছেন। অথচ সরকারি তথ্য অনুযায়ী তা মাত্র প্রায় ৪৪ হাজার।



ট্যারিফ থেকে আয় করে সেনাদের বিশেষ বোনাস দেওয়ার দাবী করেন, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল সাধারণ ভাতা।


সামাজিক নিরাপত্তা আয়ে কর নেই বলে দাবী করলেও, বাস্তবে এখনো কর নেওয়া হয়।


ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা দিয়ে আমেরিকার রাজধানীতে হামলা সম্ভব—এই দাবিরও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই।


২৪ লাখ মানুষকে ফুড স্ট্যাম্প থেকে সরানোর দাবী করেন, যা প্রকৃতপক্ষে একটি প্রস্তাবিত নীতির অংশ, বাস্তবায়িত নয়।



তিনি বলেন, তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি ওষুধের দাম কমিয়েছেন। কিন্তু ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনও এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।


বাইডেন আমলে মুদ্রাস্ফীতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ ছিল বলে দাবী করেন এটি ভুল। ১৯৮০ সালে তা অনেক বেশি ছিল।


ট্রাম্প বলেন, তাঁর সময়ে ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে, কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৯.৭ ট্রিলিয়ন।


“ওয়ান বিগ বিউটিফুল” বিলকে সবচেয়ে বড় করছাড় বিল বলেন, যদিও এর আগে আরও বড় বিল পাস হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়ো ভোটের ব্যাপক প্রচলনের দাবী করেন—এর কোনও প্রমাণ নেই।


ডাক ভোটে জালিয়াতি ঠেকাতে “SAVE Act” জরুরি বলে দাবী করেন, যদিও এমন জালিয়াতির প্রমাণ খুবই সীমিত।


গরুর মাংসের দাম কমেছে বলে দাবী করলেও বাস্তবে দাম বেড়েছে এবং নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে।


তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ঠেকিয়ে ৩.৫ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন—এই সংখ্যার কোনও ভিত্তি নেই।


বাইডেন আমলে হাজার হাজার খুনি আমেরিকায় ঢুকেছে বলে দাবি করেন, কিন্তু তথ্য অনুযায়ী এসব ঘটনা বহু বছরের সামগ্রিক হিসাব, নির্দিষ্ট সরকারের নয়।



থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া ও ইরান-ইজরায়েল সংঘাত থামানোর দাবী করেন, যদিও এসব অঞ্চলে এখনও উত্তেজনা বজায় রয়েছে।



সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের এই ভাষণটি দীর্ঘ হলেও এর অনেক দাবীই যাচাই-বাছাইয়ে অসত্য বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে সামনে এসেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad