আওয়াজ বদলে যায়, শরীরে কম্পন! পাহাড়ে দেবতা আহ্বানের রহস্যময় প্রথা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, February 11, 2026

আওয়াজ বদলে যায়, শরীরে কম্পন! পাহাড়ে দেবতা আহ্বানের রহস্যময় প্রথা



প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০০:০১ : পাহাড়ি অঞ্চলে আজও দেবতা আহ্বানের এক অনন্য ঐতিহ্য দেখা যায়। যখন গ্রামে কোনও বড় সমস্যা দেখা দেয়—যেমন রোগব্যাধি, ফসলের ক্ষতি, পারিবারিক সংকট, বা কঠোর পরিশ্রমের পরও সাফল্য না পাওয়া—তখন মানুষ দেবতার শরণাপন্ন হয়। একটি বিশেষ দিন নির্ধারণ করা হয়, মন্দির বা দেবস্থান সাজানো হয় এবং পূজার প্রস্তুতি শুরু হয়। ঢোল-দামাউয়ের শব্দে পরিবেশ ভক্তিময় হয়ে ওঠে এবং গ্রামের মানুষ এক জায়গায় জড়ো হয়।



এই পূজায় একটি বিশেষ ভূমিকা থাকে এক ব্যক্তির, যাকে ডংগরিয়া, দেববক্তা বা ধামী বলা হয়। মানুষের বিশ্বাস, পূজার সময় দেবতা তাঁর শরীরে প্রবেশ করেন। লোকজন নিজেদের সমস্যা জানান, ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।



সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিথোরাগড়ের পণ্ডিত বলদেব দত্ত ভট্ট জানান, কখনও কখনও দেবতা স্বয়ং অবতীর্ণ হন, বিশেষ করে যখন কারও উপর কোনও অশুভ ছায়ার প্রভাব থাকে। তখন দেবতা তাকে সুস্থ করার বার্তা দেন। পূজা যত এগোয়, ধামীর আচরণও তত বদলাতে থাকে—তার কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যায়, শরীরে কম্পন শুরু হয় এবং তিনি ভিন্ন ভঙ্গিতে কথা বলতে থাকেন। গ্রামবাসীরা একে দেবতার আগমন বলে মনে করেন।



শুধু মন্দিরেই সীমাবদ্ধ নয়

এরপর মানুষ নিজেদের সমস্যা তাঁর সামনে তুলে ধরে। কেউ ঘরের সমস্যার কথা বলে, কেউ অসুস্থতার সমাধান জানতে চায়, আবার কেউ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়। ডংগরিয়া দেবতার বাণী হিসেবে উত্তর দেন, আর মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই কথা শোনে। পণ্ডিত বলদেব দত্ত ভট্টের মতে, আমাদের পাহাড়ি এলাকায় দেবতা শুধু মন্দিরেই সীমাবদ্ধ নন, তাঁরা মানুষের জীবনের অংশ। যখনই কোনও সংকট আসে, মানুষ দেবতাকে স্মরণ করে এবং দেবতাও তাঁদের ভক্তদের পথ দেখান। এই পরম্পরা আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে চলে আসছে এবং আজও একই বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad