নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শরীরে এলোপাথাড়ি কোপের আঘাত, খুবলে নেওয়া হয়েছে চোখ। গৃহবধূকে নৃশংস খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের দুবরাজপুরে। মৃতার নাম চায়না মণ্ডল গড়াই, বয়স ৪৫ বছর। বুধবার রাতে দুবরাজপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় ওই বধূর রক্তাক্ত-বিকৃত দেহ। এলোপাথাড়ি কোপানোর পাশাপাশি ওই গৃহবধূর চোখও খুবলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই বর্বরোচিত ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। সেইসঙ্গে শহর জুড়ে চাপা উত্তেজনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার স্বামী গৌতম গড়াইয়ের একটি গাড়ি সারাইয়ের গ্যারেজ রয়েছে। বুধবার রাতে তিনি কাজ সেরে বাড়ি ফিরে দেখেন সদর দরজা খোলা রয়েছে। ঘরে ঢুকেই তাঁর চোখ ছানাবড়া। তিনি দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে আছেন স্ত্রী চায়না। বাড়িতে সেই সময় বধূ একাই ছিলেন। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন আত্মীয়-প্রতিবেশীরা। তড়িঘড়ি স্ত্রীকে উদ্ধার করে দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, মৃতার শরীরের আঘাতে নারকীয় অত্যাচারের চিহ্ন স্পষ্ট। তাঁর চোখ, কান, গলা, মুখ এবং ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রে কোপানোর গভীর ক্ষত রয়েছে। এমনকি গৃহবধুর চোখ খুবলে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। দুবরাজপুরের মতো শান্ত শহরে এই ধরণের নৃশংস কাণ্ড কার্যত বিরল। ঘটনার খবর চাউর হতেই কয়েকশো স্থানীয় বাসিন্দা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজনা ছড়ালে পরিস্থিতি সামলাতে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। ঠিক কী কারণে এই খুন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় তদন্তকারীরা। মৃতার স্বামী বা পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে কারও কোনও বিবাদ ছিল কি না, তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। শুরু হয়েছে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত।

No comments:
Post a Comment