এপস্টিন ফাইলস কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার ব্রিটেনের রাজার ভাই - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, February 19, 2026

এপস্টিন ফাইলস কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার ব্রিটেনের রাজার ভাই



প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৪৫:০১ : জেফ্রি এপস্টিন কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর ব্রিটিশ রাজপরিবারে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রু-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে BBC। বৃহস্পতিবার পূর্ব ইংল্যান্ডের স্যান্ড্রিংহ্যাম এস্টেটের উড ফার্ম থেকে তাকে আটক করা হয়। জানা গেছে, সাদাপোশাকে আটজন বিশেষ পুলিশ সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন। গ্রেপ্তারের দিনই অ্যান্ড্রুর ৬৬তম জন্মদিন।



কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টিন-কে সরকারি নথি সরবরাহ করেছিলেন। পুলিশ এই অভিযোগের তদন্ত করছে এবং খতিয়ে দেখছে ঠিক কোন গোপন নথি এপস্টিনের কাছে পৌঁছেছিল। তবে অ্যান্ড্রু বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। বিতর্কের জেরে তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘ডিউক অফ ইয়র্ক’ উপাধি ছাড়ার ঘোষণা দেন।



থেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে ১৯ ফেব্রুয়ারি নরফোকের প্রায় ৬৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহারের সন্দেহ রয়েছে। বার্কশায়ার ও নরফোকে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত চলায় সংবাদ প্রকাশে আদালত অবমাননার বিষয়টি মাথায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।



কে এই প্রিন্স অ্যান্ড্রু?

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং প্রিন্স ফিলিপ-এর তৃতীয় সন্তান প্রিন্স অ্যান্ড্রু। তিনি কিং চার্লস তৃতীয়-এর ছোট ভাই। ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় তার অবস্থান বর্তমানে অষ্টম।



অ্যান্ড্রুর বিয়ে হয়েছিল সারা ফার্গুসন-এর সঙ্গে। তাদের দুই কন্যা— প্রিন্সেস বিয়াট্রিস এবং প্রিন্সেস ইউজেনি।



তিনি ২২ বছর রয়্যাল নেভিতে কর্মরত ছিলেন এবং ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধে হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে কমান্ডার পদমর্যাদায় অবসর নেন। পরবর্তীতে তাকে সম্মানসূচকভাবে রিয়ার অ্যাডমিরাল ও ভাইস অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়। এছাড়া যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।



অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া এক দেওয়ানি মামলায় অভিযোগ ওঠে যে এপস্টিনের সহযোগিতায় নাবালিকা অবস্থায় এক তরুণীকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। 


অভিযোগকারীর দাবী, তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর এবং সে যৌন পাচারের শিকার হয়েছিল। তার অভিযোগ, প্রিন্স অ্যান্ড্রু তাকে তিনবার যৌন নির্যাতন করেন।


অ্যান্ড্রু অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে আসে যে তিনি অভিযোগকারীর সঙ্গে আদালতের বাইরে ১২ মিলিয়ন ইউরোতে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।


এই ঘটনায় ব্রিটিশ রাজপরিবার নতুন করে চাপে পড়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন সবার নজর।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad