প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৩ ফেব্রুয়ারি : অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত এবং অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিকের সম্পর্ক নিয়ে প্রায়ই চর্চা হয়। সম্প্রতি এক পডকাস্ট চ্যানেলে অভিনেত্রী তার প্রথম বিয়ে ভাঙা, প্রাক্তন স্বামী আর সপ্তর্ষিড় সঙ্গে সংসার জীবন নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দেন। আর তারপর থেকে তাদের নিয়ে চর্চা হয়ে আসছে।
তার মাঝেই ভাইরাল হয়েছে অভিনেত্রীর একটি পুরনো পোস্ট। যেখানে স্বামীড় চেয়ে বয়সে বড় এবং মোটা চেহারার নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে দেখা যায়। পুরনো এক সাক্ষাৎকারে সোহিনী বলেছিলেন, “মানুষ তাঁর কাজের জন্য মনে থেকে যান। চেহারায় নয়। তাই তাঁর কুচকে যাওয়া হাতের স্পর্শ আমার কাছে ঈশ্বরের সমান। শরীরটা তাঁর মাটিতে মিশেছে কবেই। কিন্তু স্কুলে পড়ার সূত্রে সান্নিধ্য পাওয়া মাদার টেরিজ়ার কথা ভাবলে আজও মনে হয়, ঈশ্বরকে ছুঁয়ে নিয়েছি। সাদা-কালো, মোটা-রোগা, বেঁটে-লম্বা— আদৌ কোনও মানুষকে হৃদয়ে ধরে রাখার মাপকাঠি হতে পারে না। যেমন, অনেক সুন্দর চেহারার আড়ালেই ভয়ঙ্কর রূপ দেখা যায়। নিজে মোটা বলে অজুহাত নয়। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।”
অভিনেত্রী আরও বলেন, “আমাকে দেখে কে কী বলল, তা নিয়ে ভাবিনি, আজও ভাবি না, কালও ভাবব না। জেনে বা না-জেনে আমরা অনেকেই ‘বডি শেমিং’ করি। সুন্দর চেহারা দেখে চট করে মুগ্ধ হওয়া, বেশির ভাগ মানুষেরই চরিত্র। কেউ সে রকম চটকদার বা ঝকঝকে চেহারার না হলে, অনেকেই তাঁকে জাস্ট পাত্তা দিই না। যাঁরা ফর্সা-কালো, বেঁটে-লম্বা, রোগা-মোটার উপর নির্ভর করে মোহগ্রস্ত হন, তাঁদের সেই প্রবণতাকেই ‘বডি শেমিং’ বলব।”
“একটা অভিজ্ঞতা মনে পড়ছে। তখন বড় হচ্ছি। হাতিবাগান দিয়ে হেঁটে যেতে গিয়ে কেউ আমাকে আন্টি ডেকেছিল। অবাক হয়ে ভেবেছিলাম, কেন আন্টি বলল? দিদিমা বলেছিলেন, ‘তুই তো ছোট থেকেই খুব ডেভেলপড, তাই।’ দিদিমার কথায় কিন্তু কষ্ট পাইনি একটুও। আমাকে ঘিরে এমনই সব মানুষ ছিলেন বা আছেন, যাঁরা স্বাস্থ্যের কথা ভেবে স্নেহমাখা শাসনে হয়তো ওজন কমানোর পরামর্শ দেন।”
সপ্তর্ষির সঙ্গে বিয়ে ঠিক হওয়ার পরে এক দিন ওদের বাড়িতে যাই। ওর ৮৯ বছরের ঠাকুরমাকে বলি, আমি মোটা, সপ্তর্ষির থেকে বয়সে বড় এবং বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। শুনে তিনি বললেন, ‘আমার মায়ের মা ফরিদপুরে মেয়েদের ম্যাগাজিন চালাতেন। সুতরাং এই ধরনের কথা আর বলবে না। তোমাদের যদি মনের দিক থেকে প্রেম হয়ে থাকে, সেটা ঈশ্বর করিয়েছেন। আমাদের কারও হাত নেই।’ এমন মানুষদের আশপাশে থেকে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছে। ‘বডি শেমিং’ বা ‘ট্রোলিং’ যাঁরা করেন, তাঁদের জন্য করুণাই হয়। ওঁদের নিজের জন্য কিছু করার নেই, তাই অন্যের পিছনে সময় নষ্ট করেন। ”

No comments:
Post a Comment