প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:২৫:০২ : লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস যাচাই করে প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে লোকসভা সচিবালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন INDIA জোট সংসদের নিয়ম ৯৪(সি)-এর অধীনে এই নোটিস জমা দিয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, স্পিকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখতে না দেওয়া, একাধিক বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা এবং সংসদে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এই অনাস্থা প্রস্তাবে ১০০-রও বেশি সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে।
সংসদীয় নিয়ম কী বলছে
নিয়ম অনুযায়ী, নোটিসের বৈধতা যাচাইয়ের পর অন্তত ১৪ দিন পার হলে তা লোকসভায় আলোচনার জন্য তালিকাভুক্ত করা যায়। তবে প্রস্তাব পাশ করাতে লোকসভার মোট সদস্য সংখ্যার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, যা বর্তমানে বিরোধীদের হাতে নেই।
লোকসভা সচিবালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বিরোধীদের নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এই নোটিস জমা দেন লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ, কংগ্রেসের প্রধান সচেতক কোডিকুনিল সুরেশ, সাংসদ মহম্মদ জাভেদ সহ অন্যান্যরা। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদরা এতে স্বাক্ষর করলেও তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সাংসদ এই নোটিসে স্বাক্ষর করেননি।
কেন ক্ষুব্ধ বিরোধীরা
২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নরভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিচারণ সংক্রান্ত বিষয় তুলতে রাহুল গান্ধীকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি সংসদের অবমাননার অভিযোগে ৮ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। এই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, লোকসভায় তাঁদের বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ শাসকদলের সাংসদদের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে।
অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া
এই অনাস্থা প্রস্তাব প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন,
“দল যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একজন দলের সদস্য হিসেবে আমি সেটাকেই সমর্থন করছি।”
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ রবি কিশন বলেন,
“এগুলো সব নাটক। ওদের আসল সমস্যা প্রধানমন্ত্রী মোদী ও বিজেপির জয়। সারা দেশেই বিজেপি জিতছে, সেটাই ওদের অস্বস্তির কারণ।”

No comments:
Post a Comment