রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন, প্রয়াত মুকুল রায় - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, February 23, 2026

রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন, প্রয়াত মুকুল রায়


কলকাতা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: রাজ্য-রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন। প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়। রবিবার রাত ১:৩০ নাগাদ তিনি কলকাতার সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায় এই খবর নিশ্চিত করেছেন। 


স্বাস্থ্যের কারণে রাজনীতি থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকলেও আলোচনায় ছিলেন সবসময়। অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন মুকুল রায়। কোমায় চলে গিয়েছিলেন। অবশেষে রবিবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার। ছেলে শুভ্রাংশুর কথায়, অনেক কষ্ট পাচ্ছিলেন, শেষ যুদ্ধ জিততে পারলেন না। উল্লেখ্য, মুকুল রায় রেলমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুবার রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।


একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড রূপে পরিচিত ছিলেন মুকুল রায়। দলের নীতি নির্ধারণের নেপথ্যে থাকতেন। বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য বলা হত তাঁকে। কিন্তু ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঘাসফুল ছাড়ার ঘোষণা দেন। এরপর সেই বছরের নভেম্বরেই যোগ দেন পদ্ম শিবিরে। বিজেপিতেও গুরুত্ব পেয়েছেন‌ প্রথম থেকেই। একুশের বিধানসভা ভোটে বিজেপি তাঁকে কৃষ্ণনগর উত্তরের প্রার্থী করে। সেইসময় তৃণমূল প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিধায়ক হন তিনি। 



এরপরেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন মোড়; বিজেপির হয়ে জয়ের কয়েকদিন পরেই (১১ জুন, ২০২১) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে রাজ্যের শাসক দলের কার্যালয়ে দেখা যায় মুকুল রায়কে। যদিও মুকুল রায়ের আইনজীবীদের জমা পিটিশনে দাবী করা হয় তিনি বিজেপিতে আছেন, তৃণমূলে যাননি। 


মুকুল রায় কোন দলের- এই নিয়ে বিস্তর জল ঘোলা হয়। তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবীতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। এমনকি গত বছরের নভেম্বরে হাইকোর্ট তাঁর বিধায়ক পদ খারিজও করে দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়। হাইকোর্টের রায় স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। অতএব জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক পদেই ছিলেন তিনি।‌


সোমবার মুকুল রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। মরদেহ প্রথমে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার। শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad