কলকাতা, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:৩৫:০২ : মুখ্যমন্ত্রী মমতার বক্তব্যকে ঘিরে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের প্রধান প্রশ্ন এখন—কতজন ভোটার শেষ পর্যন্ত তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন?
স্টেট ইলেক্টোরাল রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত প্রায় ১.২ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
ভবানীপুরে এক জৈন সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জানান, শুরুতে শোনা গিয়েছিল প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যেতে পারে, পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮০ লক্ষের ইঙ্গিত মেলে। তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে প্রায় ১.২ কোটি নামও বাদ পড়তে পারে।”
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দিয়েছে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। যদিও পরবর্তীতে সংশোধনের সুযোগ থাকতে পারে, নির্বাচন কমিশনের মতে ভোটের আগে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়। ফলে যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে না, তাঁদের ভোটাধিকার আপাতত কার্যত স্থগিত থাকতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কার নাম বাদ যাচ্ছে—হিন্দু, মুসলিম, শিখ বা জৈন—তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। কিন্তু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যাঁরা বাদ পড়বেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
এই প্রক্রিয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিচারিক আধিকারিকদের মাধ্যমে অভিযোগগুলি নিষ্পত্তি করতে হবে। কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, যদি ১,০০০-এর বেশি বিচারিক আধিকারিক দায়িত্ব নেন এবং প্রত্যেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫০টি করে আবেদন যাচাই করেন, তাহলে প্রায় ২০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে।
তবে বাস্তব চিত্র এখনও উদ্বেগজনক। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে লক্ষাধিক আবেদন নিষ্পত্তি হলেও ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ১.২ কোটি তথ্যভিত্তিক গরমিল এবং ৩২ লক্ষ ‘অচিহ্নিত’ নামের অসঙ্গতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

No comments:
Post a Comment