প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০০:০১ : হিন্দু ধর্মে যেকোনও শুভ কাজ পূজা, বিবাহ, গৃহপ্রবেশ কিংবা নতুন ব্যবসার সূচনা—সবকিছুর আগে ভগবান গণেশের আরাধনা করা আবশ্যক বলে মানা হয়। গণেশজি ‘বিঘ্নহর্তা’ ও ‘প্রথম পূজ্য’ নামে পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, তাঁর নাম স্মরণ করলে সব বাধা দূর হয়ে কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এই প্রথার পেছনে রয়েছে এক গভীর পৌরাণিক কাহিনি, যার উল্লেখ আছে শিব পুরাণ ও গণেশ পুরাণ-এ।
দেবতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের বিবাদ
কথিত আছে, একসময় দেবতাদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়—পৃথিবীতে প্রথমে কার পূজা হবে? দেবরাজ ইন্দ্র নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করেন, কার্তিকেয় তাঁর শক্তির গৌরব বর্ণনা করেন, বিষ্ণু তাঁর সর্বব্যাপী শক্তির কথা বলেন। বিতর্ক মীমাংসার জন্য সবাই ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর শরণাপন্ন হন।
মহাদেবের অনন্য প্রতিযোগিতা
বিবাদ মেটাতে শিব ঘোষণা করলেন—“যে দেবতা নিজের বাহনে চড়ে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ করে সবার আগে ফিরে আসবে, তিনিই হবেন প্রথম পূজ্য।” সঙ্গে সঙ্গে দেবতারা নিজ নিজ বাহনে চড়ে যাত্রা শুরু করেন—ইন্দ্র ঐরাবতে, কার্তিকেয় ময়ূরে, অন্যরা নিজ নিজ বাহনে।
গণেশের প্রজ্ঞা ও ভক্তি
গণেশের বাহন ছিল ছোট্ট একটি ইঁদুর। ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কিন্তু তিনি অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও ভক্তির পরিচয় দিলেন। তিনি তাঁর পিতা-মাতা শিব ও পার্বতীর চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করে প্রণাম জানালেন। কিছুক্ষণ পর অন্য দেবতারা ফিরে এসে দেখলেন, গণেশ আগেই উপস্থিত।
পিতা-মাতার মধ্যেই সমগ্র বিশ্ব
দেবতারা বিস্মিত হলে গণেশ বললেন, “পিতা-মাতার চরণেই সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড বিরাজমান। তিন লোক, নয় গ্রহ, সাত সমুদ্র—সবই তাঁদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তাই তাঁদের প্রদক্ষিণ করাই ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণের সমান।”
‘প্রথম পূজ্য’ ও ‘বিঘ্নহর্তা’ উপাধি
গণেশের এই জ্ঞান ও ভক্তিতে শিব অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। তিনি বর দেন—“আজ থেকে তুমি হবে জগতের প্রথম পূজ্য। যে কোনও শুভ কাজের আগে তোমার পূজা করা হবে; অন্যথায় সেই কাজে বিঘ্ন ঘটবে।” সেই থেকেই গণেশ ‘বিঘ্নহর্তা’ ও ‘প্রথম পূজ্য’ নামে পূজিত।
উপসংহার
এই কাহিনি আমাদের শেখায়—শুধু শক্তি নয়, বুদ্ধি ও ভক্তিই আসল শক্তি। তাই আজও বিবাহের নিমন্ত্রণপত্রে, নতুন ব্যবসার সূচনায় বা যেকোনও শুভ কাজে প্রথমে উচ্চারিত হয়—“ওঁ গণেশায় নমঃ”—যেন সকল বাধা দূর হয়ে জীবনপথ শুভ ও মঙ্গলময় হয়।

No comments:
Post a Comment