প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১০ মার্চ ২০২৬, ১৬:৪৩:০১ : আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধ আজ একাদশ দিনে পৌঁছেছে। এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বহু দেশে এবং অনেক জায়গায় জ্বালানি সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ভারত বাংলাদেশকে ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত একটি পূর্ববর্তী চুক্তির অধীনে ভারত এই ডিজেল পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মহম্মদ রেজানুর রহমান এ বিষয়ে সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মহম্মদ রেজানুর রহমান জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের একটি চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী ভারত পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতি বছর বাংলাদেশকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করবে। বর্তমানে যে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে, সেটিও সেই চুক্তিরই অংশ। চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশে অন্তত ৯০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হবে। আজ মঙ্গলবার ভারত থেকে যে চালানটি এসেছে, তার পরিমাণ ৫ হাজার টন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই মাসের মধ্যেই বাকি ডিজেলও দেশে পৌঁছে যাবে।
ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে যে ডিজেল পাঠানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের পার্বতীপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। এই সরবরাহের ফলে দেশে জ্বালানির প্রাপ্যতা বজায় রাখতে কিছুটা সহায়তা মিলেছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের পরে অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ভারতের এই সরবরাহ সেই সংকট কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানি মজুত নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দাবী, কিছু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করছেন।
এই পরিস্থিতিতে সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান শুরু করেছে। ঢাকার একাধিক পেট্রোল পাম্প ও জ্বালানি কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, কিছু পাম্প নির্ধারিত সীমার বেশি জ্বালানি বিক্রি করছে এবং অতিরিক্ত লাভের জন্য মজুত করে রাখছে। পাশাপাশি খোলা বাজারে জ্বালানি বিক্রি ও চোরাচালানের অভিযোগও সামনে এসেছে।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে আপাতত জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নতুন সরবরাহ পৌঁছানোর পরই সেখানে আবার পরিষেবা চালু করা হবে। অন্যদিকে একই এলাকার আরেকটি জ্বালানি কেন্দ্র সব নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ মজুত ও অনিয়ম ঠেকাতে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

No comments:
Post a Comment