ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৩ মার্চ ২০২৬: বর্তমান যুগ মানেই আধুনিক-ডিজিটাল। আমরা অনেকেই এটা বলে থাকি এবং এই নিয়ে কিছুটা দাপাদাপিও করে থাকি। কিন্তু এই আধুনিক-ডিজিটাল যুগেও কিছু এমন ঘটনা ঘটছে, যা কল্পনাতীত। যেমন, অতি সম্প্রতি ব্যাঙ্গালুরুতে ঘটেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস আত্মঘাতী হয়েছেন এক যুবতী। আর তাঁর এই ভয়ঙ্কর পদক্ষেপের কারণ রীতিমতো চমকে দেওয়ার মত; এক জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণীতে দিকবিদিকশূন্য হয়ে তিনি নিজের প্রাণটাই জলাঞ্জলি দিয়ে বসেন। সোমবার (২রা মার্চ, ২০২৬) পুলিশ জানিয়েছে যে, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বেঙ্গালুরুর বাগালাগুন্টে এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।
মৃতার নাম বিদ্যাজ্যোতি, বয়স ২৭ বছর। তিনি একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করতেন। ওই যুবতী ভিন্ন বর্ণের এক ব্যক্তির সাথে সম্পর্কে ছিলেন। দুই পরিবারই তাঁদের বিয়েতে রাজিও হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তেরের বরাত দিয়ে একজন পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, যুবতীর বাবা-মা সম্প্রতি একজন জ্যোতিষীর সাথে এই বিয়ের বিষয়ে পরামর্শ করেছিলেন। ওই জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, বিয়ের দুই বছর পর, দম্পতির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হবে, যার ফলে তাঁদের বিচ্ছেদ হতে পারে। জ্যোতিষী বিদ্যাজ্যোতিকে বলেছিলেন যে, তাঁর বিয়ে দুই বছরও টিকবে না, ভেঙে যাবে।
এখানেই শেষ নয়, এই বিচ্ছেদ এড়াতে জ্যোতিষী ৯ দিনের একটি আচার-অনুষ্ঠান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং পরিবার তা সম্পন্নও করেছিল। কিন্তু, এই আচার চলাকালীন যুবতী সেই ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ, আচার পালনের নবম দিনে, বিদ্যাজ্যোতি তাঁর ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। তাঁর বাবা-মা সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না। সন্ধ্যায় ফেরায় পর দরজায় বারবার ধাক্কা দিলেও সাড়া না দেওয়ায় তাঁর বাবা-মায়ের সন্দেহ হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এরপর তাঁর বাবা দরজা ভেঙে ঢুকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বাগালাগুন্টে পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা (ইউডিআর) রুজু করেছে এবং এই বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে।

No comments:
Post a Comment