ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৩ মার্চ ২০২৬: এখনকার সময়ে সমাজমাধ্যমে রিলস দেখা আর রিলস বানানো, দুটোই একপ্রকার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে অনেকের। কিন্তু এই রিলস বানানোই কাল হয়ে উঠল এক মহিলার জীবনে; স্বামীর হাতে নির্মম পরিণতি হল তাঁর। অভিযোগ, শ্বাসরোধ করে মহিলাকে খুন করেছে তাঁর স্বামী। বিহারের হাজিপুরে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মৃত মহিলার নাম অঞ্জলি চৌধুরী, বয়স ৩২ বছর। পুলিশ এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম কুন্দন শাহ। পুলিশ বর্তমানে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার তদন্ত করছে। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার (২রা মার্চ, ২০২৬) সকালেই তাঁর বাড়িতে এসে পৌঁছেছেন বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাটি পাতেপুর থানা এলাকার অন্তর্গত নিরপুর গ্রামের। মৃত মহিলার পরিবার জানিয়েছে যে, দম্পতির মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া হত। প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পাঁচ বছর আগে দুজনে বিয়ে করেন। অঞ্জলি চৌধুরী, মূলত সমস্তিপুরের পুসার বাসিন্দা, পাঁচ বছর আগে কুন্দন শাহ ও তিনি বিয়ে করেন। এটি ছিল অঞ্জলির দ্বিতীয় বিয়ে। এর ১২ বছর আগে তাঁর একবার বিয়ে হয় এবং দুই ছেলে ছিল। এরপর হঠাৎ তিনি ফেসবুকে কুন্দন শাহের প্রেমে পড়েন এবং তাঁকে বিয়ে করেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ের এই পরিণতি। বলা হচ্ছে যে, অভিযুক্ত তার স্ত্রীয়ের রিলস বানানো পছন্দ করতেন না।
মৃতার পরিবারের সদস্যদের মতে, বিয়ের পর থেকে তাদের দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। অঞ্জলি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন এবং রিল তৈরি এবং পোস্ট করতেন, যাতে তাঁর স্বামী রেগে যেতেন। এমনকি, মৃত্যুর ২৪ ঘন্টা আগে অঞ্জলি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি তাঁর স্বামী কুন্দন শাহের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ করেন। ভিডিওতে, তিনি তাঁর এই প্রেমের বিয়েকে নিজের ভুল বলেও বর্ণনা করেছেন।এরপর বাড়িতে ঝগড়া-বিবাদ আরও বেড়ে যায়।
ঘটনার রাতে, কুন্দন শাহ রাগের বশে অঞ্জলিকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন বলে অভিযোগ। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হল, এই ঘটনা ঘটে তাঁর ছোট্ট ছেলের সামনেই। মৃতার ছেলে জানিয়েছে যে, তাঁর বাবা-মা প্রায়শই ঝগড়া করতেন এবং বাবা তাঁর মাকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে।
এছাড়া, মৃতার বাবা নগেন্দ্র রজকের অভিযোগ, তাঁর স্বামী কুন্দন শাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অঞ্জলিকে প্রাণে মেরেছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে একটি প্লাস্টিকের দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যা পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। ঘটনার খবর পেয়ে, পাতেপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি নিজেদের হেফাজতে করে। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) একটি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে।
পুলিশের মতে, অঞ্জলির প্রথম বিয়ে প্রায় ১২ বছর আগে হয়েছিল। প্রেমের সম্পর্কের কারণে, তিনি তাঁর প্রথম স্বামীকে ছেড়ে পাঁচ বছর আগে কুন্দন শাহকে বিয়ে করেন। তবে, সঠিক কী কারণে এই ঘটনা, তা জানতে ধৃত স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এরই সঙ্গে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment