মমতা সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি অপমানের অভিযোগ! সরব অমিত শাহ সহ একাধিক বিজেপি নেতারা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, March 8, 2026

মমতা সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি অপমানের অভিযোগ! সরব অমিত শাহ সহ একাধিক বিজেপি নেতারা



কলকাতা, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৫:০২ : পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র সফরকে ঘিরে প্রোটোকল বিতর্ক নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, দার্জিলিং সফরের সময় রাষ্ট্রপতি যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তা দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির প্রতি প্রশাসনিক সংবেদনশীলতা ও সম্মানের গুরুতর ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।



তিনি বলেন, "যখন দেশের রাষ্ট্রপতিকে নিজেই ব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে হয়, তখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আচরণ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতেই পারে।"



এক্স-এ পোস্ট করে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল। রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে অবহেলা করা জাতীয় মর্যাদার ওপর আঘাত।" তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক পদগুলোর মর্যাদা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়কে সম্মান জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যথাযথ সমন্বয়, সতর্কতা ও সম্মান থাকা জরুরি।



বিজেপি নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

ধর্মেন্দ্র প্রধান ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গডকরি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা এই ঘটনায় তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেছেন।



তাদের অভিযোগ, শিলিগুড়ি সফরের সময় রাষ্ট্রপতির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়নি এবং প্রোটোকল মানা হয়নি। এই প্রতিক্রিয়া আসে রাষ্ট্রপতি মুর্মু সংথাল সম্মেলনের ভেন্যু পরিবর্তন এবং সফরের সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করার পর।



অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের আচরণ আবারও অরাজকতার পরিচয় দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রোটোকল সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতির অসম্মান করা হয়েছে। তিনি বলেন, "তৃণমূল সরকার শুধু নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনই করে না, রাষ্ট্রপতির প্রতিও সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।"



যোগী আদিত্যনাথের কড়া মন্তব্য

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়।" তাঁর মতে, এটি শুধু একজন ব্যক্তির অপমান নয়, বরং ভারতের গণতন্ত্র, মাতৃশক্তি এবং আদিবাসী সমাজের মর্যাদারও অবমাননা।



নীতিন গডকরির প্রতিক্রিয়া

নীতিন গডকরি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের আচরণ সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকলের প্রতি অবহেলার পরিচয় দেয়। দেশের রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের অসম্মান শুধু প্রথা ভঙ্গ নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদার ওপরও আঘাত।"



রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য

রাজনাথ সিং বলেন, "সংথাল সম্প্রদায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনে যে ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা আদিবাসী সমাজের অনুভূতির প্রতি অবহেলা এবং দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করেছে।" তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান দেখানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সংবিধান ও দেশের জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক।



জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার অভিযোগ

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, "এই ঘটনায় তৃণমূল সরকারের অগণতান্ত্রিক মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে।" তিনি দাবি করেন, আদিবাসী ঐতিহ্যের প্রতি অসংবেদনশীলতা এবং রাষ্ট্রপতির মর্যাদাহানির মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।



তিনি আরও বলেন, "এত গুরুতর ঘটনার জন্য রাজ্য সরকারের উচিত দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া এবং দায়িত্ব নির্ধারণ করা।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad