রাতে বারবার ঘুম ভাঙে শিশুর? কারণ ও সমাধান জানালেন শিশু বিশেষজ্ঞ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, March 8, 2026

রাতে বারবার ঘুম ভাঙে শিশুর? কারণ ও সমাধান জানালেন শিশু বিশেষজ্ঞ



প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:০০:০১ : শিশুকে বোঝা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন সে কথা বলতে পারে না। অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, তাদের ছোট্ট সন্তান রাতে বারবার ঘুম থেকে উঠে কাঁদতে শুরু করে। এর ফলে শুধু শিশুরই নয়, বাবা-মায়েরও ঘুম ঠিকমতো হয় না। এই সমস্যার সমাধান নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাধবী ভরদ্বাজ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কী বলছেন তিনি।



কী বলছেন চিকিৎসক

অনেক অভিভাবক জানান, তাদের সন্তান রাতে বারবার জেগে ওঠে। এতে বিশেষ করে মায়েরা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ডা. মাধবীর মতে, ২ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে রাতে মাঝেমধ্যে জেগে ওঠা স্বাভাবিক। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এই অভ্যাস অনেকটাই কমানো সম্ভব।



ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন জরুরি

শিশুর প্রতিদিনের ঘুমের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করুন প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে শিশুকে ঘুম পাড়াতে। এতে শরীরের স্বাভাবিক সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক থাকে।



যদি কখনও ১০টা, কখনও ১২টা বা ১টায় ঘুমায়, তাহলে শরীরের মেলাটোনিন হরমোনের ছন্দ নষ্ট হয়। এতে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায় এবং শিশু রাতে বারবার জেগে উঠতে পারে।



ঘুমের আগে হালকা গরম জলে স্নান

যদি শিশুর ঘুমের সময় ঠিক থাকে, তবুও সে যদি রাতে জেগে ওঠে, তাহলে ঘুমানোর আগে তাকে হালকা গরম জলে স্নান করাতে পারেন। এতে শরীর রিল্যাক্স হয় এবং অতিরিক্ত উত্তেজনা কমে যায়, ফলে শিশুর ঘুম গভীর হয়।



ঘুমের আগে হালকা মালিশ

শিশুর যখন দাঁত উঠতে শুরু করে, তখন সে অস্বস্তি অনুভব করতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে মুখে, বিশেষ করে চোয়ালের আশপাশে হালকা মালিশ করলে শিশুর আরাম লাগে। এটিকে ঘুমের রুটিনের অংশ বানানো যেতে পারে।



ঘরে কম আলো রাখুন

অনেকের অভ্যাস থাকে ডিম লাইট জ্বালিয়ে ঘুমানোর। কিন্তু শিশু বড় হতে থাকলে এই আলো তাকে বিরক্ত করতে পারে। ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখলে শিশুর গভীর ঘুম হয় এবং রাতে বারবার জেগে ওঠার সম্ভাবনা কমে।



কো-স্লিপিং অনেক সময় সাহায্য করে

কিছু শিশু নিজের বিছানায় আরাম করে ঘুমালেও অনেকেই মাঝরাতে জেগে ওঠে। এমন ক্ষেত্রে মা-বাবার কাছাকাছি ঘুমালে শিশুরা বেশি নিরাপদ বোধ করে। বাবা-মায়ের স্পর্শ ও উপস্থিতি শিশুকে শান্ত করে এবং সে দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমাতে পারে।



বাবা-মায়েরও রুটিন দরকার

আজকাল অনেক বাবা-মায়েরই নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন নেই। চিকিৎসকদের মতে, যদি অভিভাবকদেরই রুটিন ঠিক না থাকে, তাহলে শিশুর জন্যও নিয়ম তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পুরো পরিবারেরই একটি নিয়মিত ঘুমের সময় থাকা জরুরি।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad