প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০:০১ : সনাতন হিন্দু সংস্কৃতিতে অভিবাদন ও আশীর্বাদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গুরুজন, বয়োজ্যেষ্ঠ ও সাধু-সন্তদের প্রণাম করা বিনম্রতার প্রতীক, এবং এই প্রথা প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। প্রণাম করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের আশীর্বাদ লাভের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিশ্বাস করা হয়, আন্তরিক আশীর্বাদ আমাদের জীবনের বাধা-বিঘ্ন ও দুশ্চিন্তা দূর করে এবং সব কাজকে শুভভাবে সম্পন্ন হতে সাহায্য করে। অনেকেই জানতে চান, কেন সাধারণত আশীর্বাদ ডান হাত দিয়েই দেওয়া হয়—এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশিষ্ট জ্যোতিষী ড. বাসবরাজ গুরুজি।
গুরুজির মতে, মানবদেহকে দুই ভাগে ভাগ করলে ডান দিককে সূর্য পক্ষ এবং বাম দিককে চন্দ্র পক্ষ বলা হয়। ডান হাত সূর্য শক্তির সঙ্গে যুক্ত। তাই আশীর্বাদ দেওয়ার সময় ডান হাত ব্যবহার করলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রথায় ডান হাতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভোজন করা, পূজায় ফুল অর্পণ, তিলক বা কুমকুম লাগানো এবং আরতি করার মতো শুভ কাজগুলো সাধারণত ডান হাত দিয়েই করা হয়। এটি শুধু রীতি নয়, এর পেছনে আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে।
মানবদেহে ইড়া ও পিঙ্গলা নামে সূক্ষ্ম নাড়ি থাকে। এর মধ্যে পিঙ্গলা নাড়ি ডান দিকের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি শক্তি ও সক্রিয়তার প্রতীক। মস্তিষ্কের বাম অংশ দেহের ডান অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডান অংশ বাম অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে—এই ভারসাম্যই শরীরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখে।
গুরুজির মতে, ডান হাত দিয়ে করা কাজ সাধারণত ইতিবাচক অনুভূতি জাগ্রত করে। তাই ডান হাত দিয়ে আশীর্বাদ দিলে আশীর্বাদদাতা যেমন শক্তি লাভ করেন, তেমনি আশীর্বাদগ্রহীতাও শুভ ফল পান।
ডান হাত না থাকলে কী করবেন?
কখনও যদি এমন পরিস্থিতি আসে যেখানে কারও ডান হাত না থাকে বা ব্যবহার করা সম্ভব না হয়, তখন বাম হাত দিয়ে আশীর্বাদ দিলেও তার প্রভাব একই থাকে। কারণ বিশ্বাস করা হয়, এক হাতের মধ্যেই দুই হাতের শক্তি নিহিত থাকে। তবে দুই হাত সুস্থ থাকলে ডান হাত ব্যবহার করাই উত্তম। ডান হাত দিয়ে আশীর্বাদ করলে সূর্য তত্ত্বের শক্তি আরও বেশি করে প্রাপ্ত হয় বলে মনে করা হয়।
.jpg)
No comments:
Post a Comment