প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:২৫:০১ : সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে নিষ্ক্রিয় ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে, যিনি গত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোমায় রয়েছেন। আদালত তাঁর কৃত্রিম জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। নিষ্ক্রিয় ইচ্ছামৃত্যু এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনও রোগীকে ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাভাবিক মৃত্যুর দিকে যেতে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা জীবনরক্ষাকারী সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত গাজিয়াবাদের ৩২ বছরের হরিশ রাণার জন্য নিষ্ক্রিয় ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে। ছেলের মৃত্যুর অনুমতি চেয়ে তাঁর বাবা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এই রায় দেয়।
ইচ্ছামৃত্যুর আবেদন সংক্রান্ত মামলায় রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালার বেঞ্চ বলেন, “ঈশ্বর কোনও মানুষকে জিজ্ঞেস করেন না সে জীবন গ্রহণ করতে চায় কি না, মানুষকে জীবন মেনে নিতেই হয়।” এই কথাগুলি চিন্তাবিদ হেনরি ডেভিড থোরোর, যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আদালতের সামনে প্রশ্ন ওঠে—কোনও ব্যক্তির কি মৃত্যুকে বেছে নেওয়ার অধিকার আছে? একই প্রসঙ্গে সাহিত্যিক উইলিয়াম শেকসপিয়ারের বিখ্যাত উক্তি ‘বাঁচব না মরব’—এই দার্শনিক ও আইনি আলোচনাকে আরও গভীর করে তোলে।
৩১ বছরের হরিশ রাণা গত ১২ বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন এবং এখন তাঁকে ইচ্ছামৃত্যুর মাধ্যমে মৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া ২০১৮ সালের এক ঐতিহাসিক রায়ের ভিত্তিতে এটি প্রথম বিচারিক সিদ্ধান্ত।
রায় দেওয়ার আগে আদালত দু’টি চিকিৎসক দলের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে। সেখানে জানানো হয়, হরিশের সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই।
গাজিয়াবাদের রাজনগর এক্সটেনশনে বসবাসকারী হরিশের বাবা-মায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। এই সময়ে তাঁকে তরল খাদ্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছিল।
২০১৩ সালে বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গিয়ে হরিশের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তারপর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন কোমায় রয়েছেন। আদালত দিল্লির সর্বভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে তাঁকে উপশমমূলক পরিচর্যায় ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে চিকিৎসা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা যায়। একই সঙ্গে আদালত বলেছে, এই প্রক্রিয়া এমনভাবে করা উচিত যাতে রোগীর মর্যাদা বজায় থাকে।
রায় ঘোষণার আগে সুপ্রিম কোর্ট হরিশের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। আদালত দিল্লির সর্বভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় চিকিৎসক দলের জমা দেওয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এটিকে “দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করে।
প্রাথমিক চিকিৎসক দল রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে জানিয়েছিল, তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ১১ ডিসেম্বর আদালত জানিয়েছিল, প্রাথমিক চিকিৎসক দলের রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অচেতন অবস্থায় থাকা কোনও রোগীর কৃত্রিম জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মতামত দিতে একটি প্রাথমিক ও একটি দ্বিতীয় চিকিৎসক দল গঠন করা বাধ্যতামূলক।
বেঞ্চ তার রায়ে বলেছে, এই ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করার প্রক্রিয়া কার্যকর করা সম্ভব ছিল। যখন দুই চিকিৎসক দলই চিকিৎসা বন্ধ করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে, তখন আদালতের হস্তক্ষেপের আর প্রয়োজন ছিল না। তবে এটি প্রথম ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি আদালতের সামনে আনা হয়েছিল।

No comments:
Post a Comment