ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৬ মার্চ ২০২৬: পদ্মা নদীতে উল্টে পড়ল যাত্রীবাহী বাস। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরি টার্মিনাল নং ৩-এর সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি একটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে যাত্রী উঠেছিলেন এবং ভিড়ে ঠাসা ছিল। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন সাঁতরে পারে ফিরতে পারলেও বাকিরা তলিয়ে যায়।
পুলিশ পরিদর্শক রাসেল মোল্লা জানিয়েছেন যে, এখন পর্যন্ত ২৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখনও কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছেন এবং কিছু যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, "অন্ধকারের কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল কিন্তু আজ সকালে তা আবার শুরু হয়েছে। দমকল বাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য দলের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চলছে।" তিনি রাতে জানিয়েছিলেন যে, অন্ধকারের কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল কিন্তু ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই তা পুরোদমে আবার শুরু হবে।
উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ছয় ঘন্টা পর ডুবে যাওয়া বাসটিকে জল থেকে টেনে তোলে। রাত ১১:১৫ মিনিটে বাসটির একাংশ দেখা যায় এবং রাত ১১:৩০ মিনিটে একটি ক্রেনের সাহায্যে পুরো বাসটি তুলে আনা হয়। অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী বলেন যে, তিনি সাঁতরে তীরে পৌঁছালেও তাঁর চোখের সামনেই তাঁর স্ত্রী ও ছেলে ডুবে মারা যান। কালুখালী মহকুমার আব্দুল আজিজুলও জানান, তিনি বাসে ভ্রমণ করছিলেন এবং সাঁতার কেটে নিজেকে বাঁচিয়েছেন কিন্তু তাঁর স্ত্রী ও ছেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
পদ্মা নদীর তীরে দুর্ঘটনা স্থলে শোকার্ত স্বজনেরা তাদের প্রিয়জনদের জীবিত উদ্ধারের আশায় জড়ো হয়েছেন। দমকল বাহিনীর ডুবুরি, নৌবাহিনী এবং পুলিশের দল উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু রাত নামায় উদ্ধার অভিযানে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। জানা গেছে, বাসটি সৌহার্দো ট্রান্সপোর্টের ছিল। স্থানীয় প্রশাসন ও ত্রাণ দলগুলো ঘটনাস্থলে সক্রিয় থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


No comments:
Post a Comment