প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ মার্চ ২০২৬, ২২:১০:০১ : তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাবের নোটিস শুক্রবার লোকসভা ও রাজ্যসভা সচিবালয়ে জমা দিতে চলেছে। বুধবার রাত পর্যন্ত লোকসভায় ১২০ জন এবং রাজ্যসভায় ৬০ জন সাংসদের স্বাক্ষর হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে লোকসভায় ১৩০ এবং রাজ্যসভায় ৬৩ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত মোট ১৯৩ জন সাংসদ নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন।
শুক্রবার দুপুর ২টার আগে আরও কয়েকজন সাংসদ স্বাক্ষর করলে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যসভায় কমপক্ষে ৫০ জন এবং লোকসভায় ১০০ জন সাংসদের সমর্থনই যথেষ্ট। নোটিস জমা পড়লে দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিহার এবং পরে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে আসছে।
বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ কী
বিরোধী দলগুলি চায় এই প্রস্তাব দুই কক্ষেই তোলা হোক, যাতে তদন্তের জন্য যে কমিটি গঠন হবে তাতে দুই কক্ষের সাংসদরা থাকতে পারেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের মূল তিনটি অভিযোগ হলো—
১. ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা।
২. তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা দেখা করতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা।
৩. ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংবিধানের নিয়ম না মানা।
এক বিরোধী সাংসদ জানিয়েছেন, নোটিসে স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে সাংসদদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণ হয়ে যাওয়ার পরও বৃহস্পতিবার বহু সাংসদ এগিয়ে এসে স্বাক্ষর করেছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে নিশানায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার
সূত্রের দাবি, বিরোধী জোটের সব দলের সাংসদরাই এই নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি দিল্লির শাসক দল আপের সাংসদরাও এতে সমর্থন দিয়েছেন।
এর আগেও বিরোধী দলগুলি বহুবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে তিনি শাসক দল বিজেপিকে সুবিধা দিচ্ছেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরেই এই অভিযোগ উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গেও এই প্রক্রিয়া পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা অভিযোগ করেছেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment