প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০:০১ : হিন্দু ধর্মে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের সময় মন্দিরের দরজা (কপাট) বন্ধ রাখার প্রথা বহু প্রাচীন। ৩ মার্চ ২০২৬-এর পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণকে কেন্দ্র করে আবারও এই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে—কেন গ্রহণের সময় মন্দির বন্ধ রাখা হয়? এটি কেবল অন্ধবিশ্বাস নয়; বরং বৈদিক শাস্ত্র, পুরাণ ও ধর্মীয় আচার-অনুশাসনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
সূতক কাল ও শুদ্ধতার ধারণা
গ্রহণের সময়কে শাস্ত্রে ‘সূতক কাল’ বলা হয়। এই সময়ে পূজা, ভোগ নিবেদন, দেবমূর্তি স্পর্শসহ নানা ধর্মীয় আচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণত ৯ ঘণ্টা আগে এবং সূর্যগ্রহণে ১২ ঘণ্টা আগে সূতক শুরু হয়।
এই সময় মন্দিরে নিয়মিত পূজা বন্ধ থাকে এবং কপাট বন্ধ রাখা হয়, যাতে দেবমূর্তির পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ থাকে।
রাহু-কেতুর প্রভাব ও নেতিবাচক শক্তি
পুরাণ অনুযায়ী, গ্রহণের সময় রাহু ও কেতুর প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনাকে এক ধরনের মহাজাগতিক অশুভ সময় হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এ সময় পরিবেশে তমোগুণ বা নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়ে।
মন্দিরে প্রাণ-প্রতিষ্ঠিত দেবমূর্তিকে রক্ষা করতে তাই কপাট বন্ধ রাখা হয়, যাতে কোনো অশুভ প্রভাব না পড়ে।
প্রাণ-প্রতিষ্ঠিত মূর্তির সুরক্ষা
প্রাণ-প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেবমূর্তিতে দেবত্বের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, গ্রহণের সময় এই মূর্তিকে স্পর্শ করা বা পূজা করা নিষিদ্ধ।
তাই মন্দির কর্তৃপক্ষ কপাট বন্ধ রেখে দেবমূর্তিকে সুরক্ষিত রাখে। গ্রহণ শেষে গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করে পুনরায় পূজা শুরু করা হয়।
ভগবানের বিশ্রামের সময়
কিছু পুরাণে গ্রহণকে ভগবানের ‘বিশ্রাম’ বা ‘একান্ত’ সময় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই সময় দর্শন বন্ধ রাখা হয়, যেন দেবতা শান্তিতে অবস্থান করতে পারেন।
গ্রহণ শেষ হলে বিশেষ পূজা ও আরতির মাধ্যমে পুনরায় দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।
গ্রহণ শেষে শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া
গ্রহণ শেষ হওয়ার পর মন্দিরে শুদ্ধিকরণ করা হয়—গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক, নতুন বস্ত্র পরিধান, বিশেষ পূজা ও হোম অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই কপাট খোলা হয় এবং ভক্তদের জন্য দর্শন শুরু হয়।

No comments:
Post a Comment