বাবাকে খুনের পর 'বিরিয়ানি' খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুম! গুণধর ছেলের কীর্তিতে শোরগোল - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, March 4, 2026

বাবাকে খুনের পর 'বিরিয়ানি' খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুম! গুণধর ছেলের কীর্তিতে শোরগোল


ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৪ মার্চ ২০২৬: সামান্য বিবাদ থেকে বাবাকে নৃশংস খুন। এরপর বিরিয়ানি খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুম।‌ গুণধর ছেলের কীর্তিতে স্তব্ধ এলাকাবাসী। ঘটনা ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুরের ট্রান্সপোর্ট নগর সংলগ্ন বাহেরাপাড়া এলাকার। ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (২রা মার্চ, ২০২৬) রাতে। মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরেছিল ছেলে। রাগে প্রতিবাদ করেন বাবা। এরপর দুজনের কথা তুমুল কাটাকাটি, কানে গিয়েছিল পাড়া-প্রতিবেশীদেরও। কিন্তু পরদিন সকালে আর দেখা যায়নি বছর পঞ্চাশের বয়স্ক ব্যক্তিকে। সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করে ব্যক্তির দেহ। অভিযুক্ত ছেলেকে গ্ৰেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত জানায়, সে নাকি ভুলবশত এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। 


সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহেরাপাড়ার বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী পরশ কেরকেট্টা আলাদা বাড়িতে থাকতেন। আর তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছোট ছেলে প্রভাত কেরকেট্টা কাছেই একটি ভাড়া ঘরে থাকতেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে প্রভাত মদ্যপ অবস্থায় তাঁর বাবার বাড়িতে পৌঁছালে তিনি প্রচণ্ড রেগে যান, ছেলেকে বকাঝকা করেন। এরপরেই শুরু হয় বাবা-ছেলের তুমুল বাকবিতণ্ডা। তর্কাতর্কি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, প্রভাত পাশে থাকা কুড়ুল তুলে নিয়ে তার বাবার মাথায় বারবার আঘাত করে। এই মারাত্মক আঘাতের ফলে পরশ কেরকেট্টার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।


ওই ছেলের এরপরের কর্মকাণ্ড আরও ভয়ঙ্কর; প্রমাণ লোপাটে সে তার বাবার মৃতদেহ টেনে নিয়ে বাড়ির কাছে থাকা একটি জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দেয়। তারপর চুপচাপ চলে যায় কাছের একটি দোকানে, সেখান থেকে বিরিয়ানি কিনে এনে মজা করে খেয়ে ঘুমাতে চলে যায় নিজের ঘরে। মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা যুবকের বয়স্ক বাবাকে দেখতে না পাওয়ায় তাঁদের মনে সন্দেহ জাগে। এছাড়াও আগের রাতে বাবা-ছেলের ঝগড়াঝাঁটি তো কানে গিয়েছিল সকলের। এসবের ভিত্তিতে তাঁরা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে মণিপুর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।


মঙ্গলবার সকালে, স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) সিপি তিওয়ারি তাঁর দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং অভিযুক্ত প্রভাতকে হেফাজতে নেন। পুলিশ ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, অভিযুক্ত ঠাণ্ডা গলায় বলেন যে, মদ্যপ অবস্থায় "ভুলবশত" এটি হয়ে গিয়েছে। পুলিশ জলের ট্যাঙ্ক থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মৃত পরশ কেরকেট্টার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মণিপুর পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠাতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


থানার ইনচার্জ সিপি তিওয়ারি জানিয়েছেন, মদ্যপান নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর ছেলে তার বাবাকে খুন করে। অভিযুক্ত প্রভাত কেরকেট্টা ওরফে লেদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad