ন্যাশনাল ডেস্ক, ০১ মার্চ ২০২৬: বারুদ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এতে কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। রবিবার মহারাষ্ট্রের নাগপুর জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় মৃতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। এর পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।
নাগপুরের কাছে রাউলগাঁওয়ে একটি খনি ও শিল্প বিস্ফোরক কারখানায় ভয়াবহ এই বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আচমকাই জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। এরপরেই দেখা যায় কারখানা আগুনে জ্বলছে ও সেখান থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে গলগল করে।
নাগপুর গ্রামীণ পুলিশ সুপার (এসপি) হর্ষ পোদ্দার ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে জানিয়েছেন যে, খনি ও শিল্প বিস্ফোরক তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণটি ঘটে। কোম্পানির প্রতিনিধিরা পরে পিটিআইকে জানিয়েছেন যে, সকাল ৭টা থেকে ৭:১৫ টার মধ্যে ডেটোনেটর প্যাকিং ইউনিটে ঘটনাটি ঘটে।
বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তার আগে গ্ৰামবাসীরাই তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজে নামেন। জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এনডিআরএফ) কর্মীরা স্থানীয় উদ্ধারকারীদের সাথে যোগ দেয় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
জেলা কালেক্টর বিপিন ইটাঙ্কর এবং এসপি পোদ্দার ত্রাণ তদারকির জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আহতদের নাগপুরের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং এই ঘটনাকে "গভীরভাবে বেদনাদায়ক" বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক পোস্টে তিনি নিহতদের প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০,০০০ টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস বিস্ফোরণটিকে "অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং মর্মান্তিক" বলে বর্ণনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাও সহায়তা দেবে। তিনি বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশও দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুরে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলায় একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ২১ জন শ্রমিকের ঝলসে মৃত্যু হয়। এই ভয়ঙ্কর ঘটনার একদিন পরেই নাগপুরে বারুদ কারখানায় বিস্ফোরণ। প্রতিদিনের মত রবিবার সকালেও কাজে যোগ দিয়েছিলেন কর্মীরা। কিন্তু আচমকাই ঘটে যায় বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, কারখানার একাংশ ধসে পড়ে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

No comments:
Post a Comment