প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০:০১ : প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের প্রতিপদ তিথি থেকেই হিন্দু নববর্ষের সূচনা হয়। এই বছর হিন্দু নববর্ষ ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। এদিন ছিল বৃহস্পতিবার, তাই এই নববর্ষের রাজা হিসেবে দেবগণের গুরু বৃহস্পতি বিবেচিত হন এবং মন্ত্রীর পদে থাকেন গ্রহদের সেনাপতি মঙ্গল। এই বছরকে ‘রৌদ্র’ বলা হয় এবং এটি বিক্রম সংवत ২০৮৩। এই নববর্ষ চলবে আগামী ৭ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হিন্দু নববর্ষের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই দিনেই মহারাষ্ট্রে গুড়ি পড়বা এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উগাদি উৎসব পালিত হয়। এই সময় মানুষ গুড়, মিশ্রি, কাঁচা আম ও নিমপাতা একসঙ্গে খেয়ে নতুন বছরের সূচনা করে। মহারাষ্ট্রে গুড়ি পড়বার মাধ্যমে নববর্ষ শুরু হয়।
নববর্ষ পালনের ধর্মীয় কারণ
পুরাণ অনুযায়ী, চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের প্রতিপদ তিথিতেই ব্রহ্মা দেব বিশ্ব সৃষ্টির কাজ শুরু করেছিলেন। একই দিনে দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল বলেও বিশ্বাস করা হয়। এই মাসেই চৈত্র নবরাত্রি পালিত হয়, যেখানে দেবীর নয়টি রূপের পূজা ও উপবাস করা হয়। এছাড়া বলা হয়, উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্য এই দিনেই শক জাতিকে পরাজিত করে বিক্রম সূচনা করেছিলেন। এইসব কারণেই চৈত্র শুক্ল প্রতিপদে হিন্দু নববর্ষ পালিত হয়।
নববর্ষ পালনের বৈজ্ঞানিক কারণ
চৈত্র মাসের এই সময়টি প্রকৃতির দিক থেকে নতুন সৃষ্টির সূচনা হিসেবে ধরা হয়। হিন্দু নববর্ষ বসন্ত ঋতুতে শুরু হয়, যখন শীতের অবসান ঘটে এবং গরমের আগমন ঘটে। এই সময় প্রকৃতিতে পরিবর্তন আসে এবং মানবদেহও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে। পৃথিবীর ঢালের কারণে এই সময় উত্তর গোলার্ধ সূর্যের বেশি শক্তি পেতে শুরু করে, ফলে দিন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
হিন্দু নববর্ষ রাতের অন্ধকারে নয়, সূর্যের প্রথম কিরণ দিয়ে শুরু হয়। কারণ দিন ও রাত মিলিয়েই একটি পূর্ণ দিন গঠিত হয়। চৈত্র মাস সাধারণত মার্চ ও এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে পড়ে। এই সময় পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে এমন এক অবস্থানে আসে, যখন দিন ও রাত প্রায় সমান হয়, যা প্রকৃতির ভারসাম্যের প্রতীক।

No comments:
Post a Comment