প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৯:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দিন ধরে চলা সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর লাগাতার হামলা চালানো হচ্ছে, আর তার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ করছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আবারও কেন্দ্র সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন এক অস্থির ও অনিশ্চিত সময়ে প্রবেশ করেছে, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে—কিন্তু ভারত এখনো স্পষ্টভাবে কোনও অবস্থান জানায়নি।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন অস্থির এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। ভারতের তেল সরবরাহও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, কারণ আমাদের ৪০ শতাংশের বেশি তেল আমদানি Strait of Hormuz হয়ে আসে। LPG ও LNG সরবরাহের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।”
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, “এই সংঘাত এখন আমাদের কাছাকাছি এসে গেছে। হিন্দ মহাসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি। এমন সময়ে দেশের প্রয়োজন শক্ত নেতৃত্বের, অথচ ভারতের হাতে এমন এক প্রধানমন্ত্রী আছেন যিনি আমাদের কৌশলগত স্বাধীনতাকেই দুর্বল করে ফেলেছেন।”
এর আগে মঙ্গলবারও তিনি কেন্দ্র সরকারের কাছে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানাতে বলেন। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতের প্রতিক্রিয়া কী, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নীরবতা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা যেমন নিন্দনীয়, তেমনই ইরানের পক্ষ থেকে খাড়ি অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর চালানো হামলাও সমানভাবে নিন্দা করা উচিত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা গোটা পশ্চিম এশিয়াকে বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিকসহ লক্ষ লক্ষ মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাস্তব হলেও কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একতরফা আক্রমণ হোক বা পাল্টা হামলা—দুটোই সংঘাত বাড়ায়। তাই সহিংসতার বদলে সংলাপ ও সংযমই শান্তির একমাত্র পথ। তার মতে, এই ইস্যুতে ভারতের নৈতিক অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।
.jpg)
No comments:
Post a Comment