প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:১৫:০১ : ভারত সফরের পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মোদীর নেতৃত্বের ধরন, শৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ওপর তার জোরের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভারত–কানাডা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথাও জানান।
অস্ট্রেলিয়ার Lowy Institute-এ সিডনিতে বুধবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কার্নি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী একজন “অনন্য” নেতা এবং তার কাজ করার ধরণ অত্যন্ত আলাদা। মোদীর সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তিনি সত্যিই অনন্য। গত ২৫ বছরে তিনি একদিনও ছুটি নেননি—না গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন, না ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।”
কার্নি আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাজনৈতিক প্রভাব এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার ক্ষমতা অসাধারণ। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন এবং তার কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে।"
কার্নির কথায়, মোদীর সঙ্গে আলোচনায় তিনি ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং প্রশাসনিক দর্শনের বিষয়েও জানতে পেরেছেন—বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে। তিনি বলেন, “তিনি এমন একজন নেতা যিনি ডেলিভারির ওপর জোর দেন—গ্রামের ঘর থেকে শুরু করে রাস্তার সাধারণ মানুষ পর্যন্ত।”
ভারতের ডিজিটাল পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে Unified Payments Interface (UPI)-এর কথা বলেন, যা স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার মতে, এই ধরনের আর্থিক সংস্কারের লক্ষ্য হলো কোনো ধরনের লিকেজ ছাড়াই সরাসরি মানুষের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া এবং কোটি কোটি মানুষকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা।
কার্নি বলেন, দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার দিকেও সমান গুরুত্ব দেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সক্রিয় থাকলেও তিনি আবার দেশের সাধারণ মানুষের স্তরে ফিরে গিয়ে কাজ করেন।
কার্নি স্বীকার করেন যে গত কয়েক বছরে ভারত ও কানাডার সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। তবে দুই দেশ এখন নতুন করে সম্পর্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তার মতে, গত ১১ মাসে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
কানাডা ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও জানান কার্নি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)সহ নতুন প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কানাডায় প্রায় ২০ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।

No comments:
Post a Comment