প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:৪০:০১ : ৯ মার্চ থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে। ওই দিন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অপসারণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার সময় তিনি অধিবেশন পরিচালনা করবেন না, বরং অন্যান্য সাংসদের সঙ্গে আসনে বসবেন। সংবিধান ও লোকসভার নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব উঠলে তিনি সেই সময় সভার সভাপতিত্ব করতে পারেন না।
এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বিরোধীরা স্পিকারের বিরুদ্ধে লোকসভার কার্যক্রম পরিচালনায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের যথেষ্ট সময় কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। লোকসভায় কংগ্রেসের প্রধান হুইপ K. Suresh কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমসহ একাধিক বিরোধী দলের পক্ষ থেকে লোকসভা সচিবালয়ে এই নোটিস জমা দিয়েছেন।
এই নোটিসে অন্তত ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা এতে স্বাক্ষর করেননি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ P. D. T. Achary-র মতে, প্রস্তাবটি যখন সংসদে তোলা হবে তখন স্পিকার হিসেবে ওম বিড়লা নিজের পক্ষে বক্তব্য রাখার সাংবিধানিক অধিকার পাবেন। তিনি আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন এবং প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোটও দিতে পারবেন, তবে ভোট দেওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয় ভোটিং সিস্টেমের বদলে তাঁকে স্লিপ মাধ্যমে ভোট দিতে হবে।
ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন তাঁরা অধিবেশনের সভাপতিত্ব করতে পারেন না। আর আর্টিকাল ৯৪ অনুযায়ী, লোকসভার স্পিকারকে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহীত প্রস্তাবের মাধ্যমে পদ থেকে সরানো যেতে পারে।
লোকসভার নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের প্রস্তাব আনতে কমপক্ষে দুইজন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন, যদিও নোটিসে যত খুশি সাংসদ স্বাক্ষর করতে পারেন। প্রস্তাবটি আনার আগে অন্তত ১৪ দিনের নোটিস দিতে হয় এবং আলোচনা শুরু হলে ১০ দিনের মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হয়। তবে সংসদের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত লোকসভার কোনও স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব পাস হয়নি, কারণ সাধারণত সরকারেরই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে।

No comments:
Post a Comment