প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৮:২৫:০১ ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এখন চরমে পৌঁছেছে। দুই পক্ষই একে অপরের ওপর ধারাবাহিকভাবে সামরিক হামলা চালাচ্ছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন, যা শুধু তেহরানের নেতৃত্ব নয়, সরাসরি ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতিও উদ্দেশ্য করে বলা।
নেতানিয়াহু ইরানের নাগরিকদের নিজেদের শাসকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি “অপারেশন রাইজিং লায়ন”-এর আওতায় ইরানের ওপর চলমান সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে জনগণ যেন শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তিনি একটি ভিডিও বার্তায় দাবী করেন, ইজরায়েলের সামরিক অভিযান ইরানের ক্ষমতাসীন কাঠামোকে দুর্বল করবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিবাদের সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বর্তমান শাসনকে “সন্ত্রাসী শাসন” বলেও আখ্যা দেন।
নেতানিয়াহু বলেন, “আগামী কয়েক দিনে আমরা ওই শাসনের হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানব।” তাঁর মতে, এই অভিযান ইরানের মানুষকে দীর্ঘদিনের অত্যাচার থেকে মুক্তির পথ তৈরি করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সময়টা ঐতিহাসিক—এমন সুযোগ প্রতিটি প্রজন্মে একবারই আসে।
তিনি ফারসি, কুর্দ, আজেরি, আহভাজি এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার কথা বলেন, যাতে বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা যায়।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি করতেও ভূমিকা রাখছে। তাঁর দাবী, দীর্ঘদিন ধরে যারা পরিবর্তন চাইছিলেন, তারা এখন বাইরের সমর্থনও পাচ্ছেন।
“অপারেশন রাইজিং লায়ন”-এর মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, এই সামরিক চাপের ফলে ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
ইজরায়েলের এই বক্তব্য ও ধারাবাহিক হামলার পর, আর তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জেরে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment