ন্যাশনাল ডেস্ক, ০১ মার্চ ২০২৬: ঘরের তালা খোলা নিয়ে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে ঝগড়া। রাগে শাশুড়ির মাথায় শিলনোড়া দিয়ে মার পুলিশ পূত্রবধূর। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৫০ বছর বয়সী শাশুড়ি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের মুঙ্গেরের আসরগঞ্জ থানা এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। স্টেশন হাউস অফিসার বিপুল কুমার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান এবং আহত মহিলার কাছ থেকে ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
মহিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায়, চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভাগলপুরের মায়াগঞ্জ হাসপাতালে রেফার করেন। এফএসএল দল কালালি মোড়ে স্থিত আহত মহিলার বাসভবনে পৌঁছে আক্রমণে ব্যবহৃত শিলনোড়া উদ্ধারের পাশাপাশি পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে। আক্রান্ত মহিলা ও তাঁর স্বামীর আবেদনের ভিত্তিতে, পুলিশ ইন্সপেক্টরের পুত্রবধূ নূতন কুমারীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করে। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত পুত্রবধূকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কালালি মোড়ের বাসিন্দা কিরণ দেবীর ছেলে ঋতুরাজের দুই বছর আগে বিয়ে হয় রহমতপুর বাসা মাঞ্জি টোলার বাসিন্দা নূতন কুমারীর সাথে। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। বিয়ের সময়, তাঁর স্বামী বেকার ছিলেন এবং নূতন ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারীনি। পরবর্তীতে ঋতুরাজ দিল্লী পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপরেই তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। এই উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে নূতন তার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান এবং তালা খোলা নিয়ে বিবাদ তীব্রতর হয়। অভিযোগ, এই সময় পুত্রবধূ তাঁর শাশুড়িকে শিলনোড়া দিয়ে আক্রমণ করেন। খবর পেয়ে টহল আধিকারিক শম্ভু পাসওয়ান ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত মহিলাকে হাসপাতালে পাঠান। উল্লেখ্য, নূতন কুমারী মধুবানিতে ২০১৮ ব্যাচের পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর।
আহত কিরণ দেবী জানিয়েছেন, নূতন কুমারী তাঁর ছোট পুত্রবধূ। তিনি বারবার তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে আসছেন। তাঁর কথায়, "আমার ছেলে ও পুত্রবধূ প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছিল। পুত্রবধূ আমাকে মারার চেষ্টা করেছে। পুত্রবধূ তাঁর পুরো পরিবার নিয়ে এসেছিল এবং পাথররে শিলনোড়া আমার মাথায় মেরেছে। বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূ আমাকে নিশানা করেছিল। অনেকবার আমাকে মেসেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ করত। আমি তাকে ব্লক করে দিয়েছিলাম।"
তিনি বলেন, ২৫শে ফেব্রুয়ারি পুত্রবধূ তার বাবা-মায়ের বাড়িতে যায়। সে জানত আমি বাড়িতে একা। এ কারণেই সে আমাকে খুনের চেষ্টা করে।" আহত মহিলার বড় ছেলে মনজিৎ কুমার জানিয়েছে যে, ২০২৪ সালে তাঁর ভাই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে নূতনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি তার ভাইয়ের সাথে দিল্লীতে থাকতে শুরু করেন কিন্তু কয়েকদিন পর তাঁদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ইন্সপেক্টর নূতন আমার মায়ের ওপর হামলা চালায়। থানা প্রধান বিপুল কুমার জানিয়েছেন যে, আক্রান্তের স্বামীর বক্তব্যের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত নূতন কুমারীকে গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment