প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১২ মার্চ ২০২৬, ২০:০৫:০১ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনেই আমেরিকা ও ইজরায়েলকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে। ইরান প্রতিটি মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে। কোনো শহীদের ত্যাগ ভোলা হবে না। ইরানের মানুষের রক্তের প্রতিটি ফোঁটার হিসাব নেওয়া হবে, এমনকি শিশুদের মৃত্যুরও প্রতিশোধ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলিকে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, নিজেদের ভূখণ্ড থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে দিতে। তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকার সব ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
মুজতবা খামেনেই বলেছেন, বিশেষ করে মিনাবের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে। তিনি ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, বাহিনী দৃঢ়ভাবে দেশের প্রতিরক্ষা করছে এবং শত্রুর আক্রমণের জবাব দিচ্ছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং আশ্বাস দেন যে প্রতিটি শহীদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
খামেনেই জানান, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তাই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ওপর হামলা করা হয়নি। বরং যেসব দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানকার সেই ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে, কারণ ওই স্থানগুলো থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো হচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, শত্রুর কাছ থেকে ক্ষতির পূরণও আদায় করা হবে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করে বলেন, যদি শত্রুপক্ষ ক্ষতির ক্ষতিপূরণ না দেয়, তাহলে ইরান প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সম্পত্তির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। আর তা সম্ভব না হলে সেই সম্পত্তি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তিনি প্রতিরোধ জোটের যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই জোটভুক্ত দেশগুলোকে ইরান নিজের সেরা বন্ধু মনে করে।
তিনি আরও বলেন, ত্যাগ স্বীকার করা হিজবুল্লাহ নানা বাধা সত্ত্বেও ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে সাহসী ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধারাও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে একই পথে এগিয়ে চলেছে। উল্লেখ্য, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই মুজতবা খামেনেইয়ের প্রথম বার্তা, যা রাষ্ট্রীয় দূরদর্শনে পাঠ করে শোনানো হয়েছে। তবে তিনি নিজে পর্দায় উপস্থিত হননি।

No comments:
Post a Comment