ভোটের আগে বাংলায় পরিবর্তন! শপথ নিয়ে বড় বার্তা নতুন রাজ্যপালের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, March 12, 2026

ভোটের আগে বাংলায় পরিবর্তন! শপথ নিয়ে বড় বার্তা নতুন রাজ্যপালের



কলকাতা, ১২ মার্চ ২০২৬, ২০:২৫:০১ : পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল রবিশঙ্কর নারায়ণ রবি কলকাতার লোকভবনে শপথ গ্রহণ করলেন। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু সহ আরও অনেকে।



নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে এগারোটায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ গ্রহণের আগে ও পরে ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’ বাজানো হয়। শপথ নেওয়ার পর নতুন রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী ও উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে আলাপচারিতা করেন।



শপথ গ্রহণের পর জারি করা বার্তায় রাজ্যপাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ও বিনম্র মনে করছেন। তিনি বলেন, এই মহান ভূমি হাজার হাজার বছর ধরে ভারতের আধ্যাত্মিক, বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।



রাজ্যপাল বলেন, "এই সেই ভূমি যেখানে বহু হাজার বছর আগে বেদের চিরন্তন জ্ঞান বিকশিত হয়েছে, যেখানে গৌতম বুদ্ধের শিক্ষাকে নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ভক্তি আন্দোলনের মহান ঐতিহ্য বিকশিত হয়েছে এবং যা জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে শক্তি জুগিয়েছে।"



তিনি আরও বলেন, বিদেশি আক্রমণ ও দখলের কঠিন সময়েও এই ভূমি নিজের সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষা করার সংগ্রাম চালিয়ে গেছে।



রাজ্যপাল জানান, এই মাটিতেই জন্ম নিয়েছেন চৈতন্য মহাপ্রভু, ভগবান রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়—যাঁর ‘বন্দে মাতরম’ স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান স্লোগান হয়ে উঠেছিল—মহান কবি ও চিন্তাবিদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিপ্লবী আধ্যাত্মিক নেতা শ্রীঅরবিন্দ, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী সুভাষচন্দ্র বসু এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো অসংখ্য মহাপুরুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন যাতে তিনি এই রাজ্যের মানুষের আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও শক্তি পান।



সি. ভি. আনন্দ বোসের পদত্যাগের পর রবিশঙ্কর নারায়ণ রবিকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন। তামিলনাড়ুতে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সঙ্গে ডিএমকে সরকারের একাধিকবার মতবিরোধের ঘটনা সামনে আসে। বিভিন্ন বিলকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিনের সরকারের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।



স্টালিন রাজ্যপালকে অপসারণের দাবীতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আবেদন করেছিলেন। এবার নির্বাচনের আগে আনন্দ বোসের পর রবিশঙ্কর নারায়ণ রবিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভবিষ্যতে কেমন থাকে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad