ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ মার্চ ২০২৬: সুস্থ হতে হাসপাতালে আসেন মানুষজন আর সেই হাসপাতাল-ই কিনা হয়ে গেল মৃত্যু ফাঁদ। ভোরের আলো ফোটার আগের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন একাধিক মানুষ। হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ আগুন কেড়ে নিল কতগুলো প্রাণ, যারা এসেছিলেন সুস্থ হতে। ঘটনাস্থল ওড়িশার কটক। সোমবার ভোররাতে ওড়িশার কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটেছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ভবনে অবস্থিত ট্রমা কেয়ার আইসিইউতে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সোমবার ভোর ৩টার দিকে ট্রমা কেয়ার ইউনিটের প্রথম তলায় আগুন লাগে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো আইসিইউ ওয়ার্ড কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। সেই সময় ওয়ার্ডের অনেক গুরুতর রোগী লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে ছিলেন।
হাসপাতালের কর্মীরা এবং দমকলকর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে ধোঁয়া এবং তীব্র আগুনের কারণে বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ রোগী আটকা পড়ে যান।
হাসপাতাল প্রশাসন এবং দমকল বিভাগের সক্রিয় পদক্ষেপে কয়েক ডজন রোগীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যারা বেঁচে গেছেন এবং গুরুতর অবস্থায় ছিলেন তাঁদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার জন্য অবিলম্বে নিউ মেডিসিন আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে তিনটি দমকলের ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়েছিল। কয়েক ঘন্টার প্রচেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন দমকলকর্মীরা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং মৃতদের পরিবারের সাথে দেখা করে সমবেদনা জানান। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য স্বাস্থ্য সচিব, কটক জেলা কালেক্টর এবং ডিসিপিও উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ওই ওয়ার্ডে ২৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। উদ্ধার অভিযানের আগে ওয়ার্ডের ভেতরে ৭ জন মারা যান। আহত অবস্থায় এবং ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে উদ্ধারের পর ৩ জন মারা যান। মোট ১০ জন মারা যান। কমপক্ষে পাঁচজন রোগী গুরুতর আহত হন। তাঁদের চিকিৎসা করানো দুই হাসপাতালের কর্মীও গুরুতর আহত হন।" মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও ঘোষণা করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আইসিইউর এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম অথবা কোনও চিকিৎসা সরঞ্জামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে। সরকার এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তে আরও জানা যাবে যে, হাসপাতালে অগ্নি নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণে কোনও অবহেলা করা হয়েছে কিনা।

No comments:
Post a Comment