কলকাতা, ১৬ মার্চ ২০২৬: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়েছে। আর ভোট ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বদল আনল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল নন্দিনী চক্রবর্তীকে। নন্দিনীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকেও তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজ তাঁরা করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, নির্বাচন ঘোষণার সাথে সাথেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে যায়। এই সময়কালে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে; রাজ্য সরকারের আমলা, আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তাদের বদলির আদেশ দিতে পারে।
দুষ্মন্ত নারিয়াওয়ালা ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার। তিনি পূর্বে রাজ্য সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বিভাগে অতিরিক্ত মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। অতীতে তিনি সেচ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেছেন। এবার কমিশন নন্দিনীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দুষ্যন্তকে রাজ্যের নতুন মুখ্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত করেছে। কমিশন তাঁকে আজ (সোমবার) বিকেল ৩টার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
জগদীশের স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন আইএএস অফিসার সংঘমিত্রা। তিনি ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। এখন পর্যন্ত তিনি মহিলা ও শিশু কল্যাণ বিভাগের প্রধান সচিব ছিলেন। এই বিভাগ থেকে তিনি রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন।
রাজ্য নির্বাচন ঘোষণার সাথে সাথে কমিশন জগদীশকে সরিয়ে তাঁকে স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিযুক্ত করে। সংঘমিত্রাকেও বিকেল ৩টার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। কমিশন আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নন্দিনী বা জগদীশকে কোনও নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত করা যাবে না।
এর আগে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়, কমিশন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে। সেই সময়, কমিশন অভিযোগ করে যে, অত্রি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এমন কিছু পদক্ষেপ করেলেন যা কমিশনের নির্দেশের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ছিল। সেই বছর লোকসভা নির্বাচনের সময় কমিশন পুলিশ প্রধান রাজীব কুমারকেও তাঁর পদ থেকে অপসারণ করে। রাজীব তখন সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ছিলেন।
কমিশন অতীতে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্তা এবং সরকারি আধিকারিককে বদলি করেছে। নির্বাচনের আগে পুলিশ সুপার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার বদলের উদাহরণ রয়েছে। তবে একেবারে মুখ্যসচিব পর্যায়ে পরিবর্তন সাম্প্রতিক সময়ে কবে হয়েছে, মনে করতে পারছেন না কেউই।


No comments:
Post a Comment