প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৯ মার্চ ২০২৬, ১৫:২২:০১ : খাড়ি অঞ্চলে বাড়তে থাকা অস্থিরতা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে সোমবার সংসদের রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে বহু মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এই পরিস্থিতির ওপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিয়মিত নজর রাখছেন এবং ভারত সবসময় শান্তির পক্ষে।
বিদেশমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই খাড়ি অঞ্চলের একাধিক দেশের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই অঞ্চল আমাদের প্রতিবেশী এবং সেখানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি জানান, খাড়ি অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন। ইরানেও কয়েক হাজার ভারতীয় ছাত্র ও কর্মী রয়েছেন। তাই পরিস্থিতি ভারতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, এই অঞ্চল ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ এখান থেকেই আসে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে ভারতের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে খাড়ি অঞ্চলের সংকট এবং তার প্রভাব নিয়ে সোমবার সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ একাধিক দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেন।
বিক্ষোভে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের হাতে একটি বড় ব্যানার ছিল, যেখানে লেখা ছিল— “India Needs Leadership, Not Silence” (ভারতের দরকার নেতৃত্ব, নীরবতা নয়)।
বিদেশমন্ত্রী জানান, ইরানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস কয়েকজন ভারতীয় ছাত্রকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
ব্যবসার কাজে ইরানে থাকা অনেক ভারতীয়কে আর্মেনিয়া সীমান্ত পার করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তিনি বলেন, তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর এবং হাই অ্যালার্টে রয়েছে।
জয়শঙ্কর বলেন, সংকটপূর্ণ এলাকা থেকে ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। রবিবার পর্যন্ত প্রায় ৬৭ হাজার ভারতীয় আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছেছেন।
বিদেশমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, ভারত সবসময় শান্তি, সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমস্যার সমাধান চায়। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হোক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক— এটাই ভারতের অবস্থান।
তিনি জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকার একটি বিবৃতি দিয়ে এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল এবং সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর তেহরানও পাল্টা হামলা করে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং জ্বালানির দামও বাড়তে শুরু করেছে। ভারত সরকার পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রেখে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment