স্পোর্টস ডেস্ক, ০৬ মার্চ ২০২৬: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অসাধারণ জয় হাসিল করেছে টিম ইন্ডিয়া। দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সঞ্জু স্যামসন এদিন দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। তিনি ৪২ বলে ৮৯ রান করেন, যার মধ্যে আটটি চার এবং সাতটি ছক্কা ছিল। সঞ্জু স্যামসন এবং অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে ভারত। জবাবে, ইংল্যান্ডও দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সাত উইকেটে ২৪৬ রান করে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত সাত রানের ব্যবধানে জিতে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে।
সঞ্জু স্যামসনকে তাঁর দুর্দান্ত ইনিংসের জন্য প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের পুরষ্কার দেওয়া হয়। তবে, পুরষ্কার নেওয়ার সময়, তিনি জয়ের ক্রেডিট দেন ফাস্ট বোলার জসপ্রীত বুমরাহকে। সঞ্জুর মতে, প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের পুরষ্কার দেওয়া উচিৎ ছিল বুমরাহকে। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক (৭) এর আকারে ভারতকে চার ওভারের স্পেলে ৩৩ রানের বিনিময়ে ভারতকে এদিন বড় সাফল্য এনে দেন বুমরাহ। ১৮তম ওভারে মাত্র ৬ রান দেন তিনি, যা ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
সেমিফাইনালের পর সঞ্জু স্যামসন বলেন, "এরকম ইনিংস খেলতে পারাটা দারুন লাগছে। গত ম্যাচ থেকে আমি ভালো ফর্মে ছিলাম, তাই ভাবলাম আমার খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। আমি নিজেকে অতিরিক্ত সময় দিয়েছিলাম। আমি আমার ইনিংসটা একটু হিসাব করেছিলাম। আমি ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এবং সবকিছু ঠিকঠাকই হয়েছিল। শুরুতে আমি একটু ভাগ্যবান ছিলাম। ওয়াংখেড়েতে যেকোনও স্কোর ছোট, তাই আমি যতটা সম্ভব বেশি রান করতে চেয়েছিলাম। এখানে ২৫০ রানও তাড়া করা সম্ভব এবং ইংল্যান্ড খুব ভালো খেলেছে। তাঁদের ব্যাটিং কৃতিত্বের দাবী রাখে এবং আমাদের সেমিফাইনাল সত্যিই ভালো ছিল।"
উল্লেখ্য, টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনকে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সুপার ৮ ম্যাচে অপরাজিত ৯৭ রানের জন্য তিনি এর আগে এই পুরষ্কার জিতেছিলেন তিনি।
উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বলেন, "আমরা ওয়াংখেড়েতে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। এখানে লক্ষ্য তাড়া করা সহজ। ইংল্যান্ড টস জিতে আমাদের ব্যাট করতে বলে। আমি আর ঈশান যেভাবে ব্যাট করেছি আর অভিষেক আউট হওয়ার পর আমাদের যে পার্টনারশিপ হয়েছে, তাতে আমার মনে হয়েছে আমরা এখানে ২৫০ রান করতে পারব। আমরা ড্রেসিংরুমেও এই বিষয়ে কথা বলছিলাম। তাই, ভারতীয় দল যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুবই খুশি। এই জয়ের সমস্ত কৃতিত্ব জসপ্রীত বুমরাহের, যিনি একজন বিশ্বমানের বোলার। তাঁর মতো খেলোয়াড়রা প্রজন্মে একবারই আসে। তিনি আজ তা দেখিয়েছেন। এই পুরষ্কার সত্যিই তাঁর প্রাপ্য। যদি আমরা ডেথ ওভারে এভাবে বোলিং না করতাম, তাহলে আমার মনে হয় আমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম না। সমস্ত কৃতিত্ব বোলারদের; তাঁরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও পারফর্ম করেছিলেন।"
সেঞ্চুরি মিস করা সম্পর্কে স্যামসন বলেন, "আমি মনে করি না এটা গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা করে সেঞ্চুরি করা যায় না, এটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। এটা কোনও টেস্ট বা ওডিআই ম্যাচ নয় যেখানে আপনি ওঠানামা করতে পারেন। যখন আপনি প্রথমে ব্যাট করেন এবং একবার শুরু করেন, তখন এটি থামানোর কোনও উপায় নেই। আপনাকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হবে। যখন আপনি অবশেষে সঠিক পজিশনে পৌঁছান, কে জানে আপনি কত রান করবেন। তাই আমি যা পাচ্ছি এবং যে রান করেছি তাতে খুব খুশি। আমার দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আমি খুশি।"

No comments:
Post a Comment