নাগপুর, ০৬ মার্চ ২০২৬: ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবককে একের পর এক কোপ। প্রকাশ্য দিবালোকে হাড়হিম এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নাগপুর জেলার খাপারখেদা এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার। তদন্তে জানা গেছে যে, মৃত এবং অভিযুক্ত মহিলার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মৃতের নাম সাগর ওয়াংখেড়ে। জানা গেছে, সাগর পুনেতে কাজ করতেন এবং হোলি উপলক্ষে নাগপুরে বাড়ি এসেছিলেন। খুনের অভিযোগে পুলিশ স্বামী রাজু গজভিয়ে এবং স্ত্রী সোনালি গজভিয়েকে গ্রেফতার করেছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, সোনালি এবং সাগর তাঁদের স্কুল জীবন থেকেই প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। সোনালি পরে রাজু গজভিয়েকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু সোনালি এবং সাগর বিয়ের পরেও যোগাযোগ রেখে যাচ্ছিলেন। রাজু গজভিয়ে এর আগে খাপারখেদা থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। জানা যায়, সাগর পুনে থেকে তার গ্রাম সাওঙ্গিতে এসেছিলেন হোলি উদযাপন করতে। এই সময় তিনি সমাজমাধ্যমে সোনালিকে বার্তা পাঠান এবং তার সাথে দেখা করতে বলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে, সাগর খাপারখেদায় পৌঁছায় এবং সোনালি তাঁর বাইকে শ্যাম মঙ্গল কার্যালয়ের কাছে চলে যায়। সোনালি নিজের সাথে একটি ছুরিও নিয়ে যায়।
রাজু গজভিয়েও তাদের সন্তানদের স্কুলে নামিয়ে দেওয়ার পর যুগলের পিছু নেন। খাপারখেদা-কোরাডি রোডের কলার নদীর ব্রিজ পার হওয়ার পর, সোনালি ইচ্ছা করে তাঁর পার্স ফেলে দেয়। সাগর যখন সেটা তুলতে বাইক থামায়, সোনালি ছুরি বের করে তাকে দু'বার আঘাত করে। এমন সময় ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় রাজু গজভিয়। রাজুও একাধিকবার সাগরকে ছুরিকাঘাত করার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ভয়ানক কাণ্ড ঘটিয়ে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী বাড়ি ফিরে আসে। এরপর দম্পতি থানায় আত্মসমর্পণ করতেই যাচ্ছিলেন, সেই সময় পুলিশ তাদের আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময়, দুজনেই খুনের কথা স্বীকার করে। দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। অন্যদিকে সাগরের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নাগপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কোরাডি থানায় এই বিষয়ে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে। এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা খাপারখেদা এবং আশেপাশের এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।

No comments:
Post a Comment